বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি

hasina-modi220150922195913_201419ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে গণভবনে বাংলা‌দেশ ও ভার‌তের প্রধানমন্ত্রী ভি‌ডিও কনফা‌রে‌ন্সের মাধ্য‌মে ত্রিপুরা-কু‌মিল্লা আন্তঃ‌দেশীয় গ্রি‌ডের উদ্বোধন করেন।

ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর সঙ্গে সঙ্গেই ভারত-বাংলাদেশ ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়। আমদানিকৃত এই বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে সাড়ে পাঁচ রুপি বা ৬.৪৩ টাকা। এই বিদ্যুৎ কুমিল্লা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যবহৃত হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ভারতে রপ্তানির বিষয়টিও হাসিনা-মোদির টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে শুরু হয়।

ত্রিপুরা ‍থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করলো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি আমাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণ হবে। বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানিতে ত্রিপুরাসহ এ অঞ্চলের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। ২০০৯ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গভীর হয়। বিদ্যুৎ-ব্যান্ডউইথ বিনিময় সে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করলো।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ঐতিহাসিক এ ঘটনায় আজ আমাদের মধ্যে এমন এক গেটওয়ে খুলছে, যা আমাদের আরো সামনে অগ্রসর হতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ডিজিটাল বিশ্বের এ গেটওয়ে খুলছে।

তিনি বলেন, আসাম, ত্রিপুরাসহ এ অঞ্চলের জন্য যে ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার ধারণক্ষমতা আমরা প্রথম থেকেই বেশি রেখেছি। আসছে দিনগুলোয় প্রয়োজন হলে আমরা আরো বেশি বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারবো।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকেই এই বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দামের বিষয়টি মীমাংসিত না হওয়ায় তখন থেকে তা আসেনি। গত ৯ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ঊর্ধ্বতন সরকারি পর্যায়ের এক সভায় দামের বিষয়টির ফয়সালা হয়।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ভেড়ামারা দিয়ে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে। এই ৫০০ মেগাওয়াটের ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট কেনা হচ্ছে আড়াই টাকা দরে। বাকি মেগাওয়াট ইউনিটপ্রতি সাড়ে চার টাকা দরে আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন