বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ওই ব্যাংকে চুরির টাকা প্রতিদিন ৬ ভাগ হয়

Bank-Chorরাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের আলোচিত চুরি করা টাকা প্রতিদিন ৬ ভাগ হতো বলে জানা গেছে।  এর একটি বড় অংশ পেতেন মতিঝিল লোকাল শাখার একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)। এছাড়া, আরও চারজন কর্মকর্তা নিয়মিত টাকার ভাগ নিয়েছেন। তবে, রাজীবুল হাসান নিজে চুরি করার কারণে চুরির বড় অংশ নিতেন তিনি নিজেই।  জনতা ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রাজীবুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করার পরও পুলিশে না দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর টাকার ভাগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। এ অবস্থায় ঘটনা আড়াল করতে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন ওই শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা।

জানা গেছে, চুরির ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে ধরতে ব্যাংকে আসে। কিন্তু তাকে গ্রেফতার করতে দেওয়া হয়নি। কৌশলে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  শুধু তাই নয়, তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে তাকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন চুরির টাকার ভাগ নেওয়া কর্মকর্তারা।

এদিকে, মতিঝিল থানা থেকে মামলার নথি স্থানান্তর করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। মতিঝিল থানা সূত্রে জানায়, জনতা ব্যাংকের ওই কর্মকর্তার মামলার নথি  দুদকে পাঠানো হয়েছে।  মঙ্গলবার তার রিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে ব্যাংক। ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাংক ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। বাকি টাকা উদ্ধারের জন্য তার কাছ থেকে একটি অগ্রীম চেকসহ তার স্ত্রীর নামে রায়ের বাজারে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটের মূল দলিল ব্যাংকের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সার্বিক বিষয়ে তার কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামাও নেয় ব্যাংক।

জানা গেছে, টাকা চুরির ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত টিম গঠন করেছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকের ভিজিল্যান্স ডিপার্টমেন্ট ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

এ  প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ৩৫ লাখ টাকা ধার নেওয়ার বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাজিবুল হাসানের বাসা থেকে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাসা থেকে বস্তাভর্তি ৭৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আর অফিসে তার ড্রয়ারে পাওয়া গেছে আরও ১৫ লাখ টাকা। এর বাইরে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থসহ মোট ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লোকাল শাখায় কেবল রাজীবুল হাসানই নন, আরও অনেকেই ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি করছেন প্রতিদিন। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে আরেকজন কর্মকর্তা লোকাল শাখা থেকে ৯৬ লাখ টাকা চুরি করার পর ধরা পড়েন। কিন্তু তাকে শাস্তি না দিয়ে সিলেটে বদলি করা হয়। তিনি বলেন, ৯৬ লাখ টাকা চুরির অপরাধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ার কারণে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম বলেন, অর্থচুরির ঘটনা ঘটলেও, এই টাকা গ্রাহকের নয়। এগুলো ব্যাংকের নিজস্ব টাকা। ইতোমধ্যে  উদ্ধার করা হয়েছে এই টাকাগুলোর একটি বড় অংশ। এর বাইরে রাজীবুল হাসানের কাছ থেকে অগ্রিম চেক নেওয়া হয়েছে। কোনও কারণে চেক যদি ডিজঅনার হয়, সেক্ষেত্রে তার স্ত্রীর নামে থাকা একটি ফ্ল্যাটের মূল দলিল ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। এর ফলে বাকি অর্থ আদায়ের বিষয়টি সমন্বয় করা সহজ হবে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়াসহ তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকিটা আদালত দেখবেন। আর্থিক বিষয়ে গ্রাহকের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন