বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নিয়ে রিভিউ করবেন মোজাম্মেল


NEWSWORLDBD.COM - March 27, 2016

Mojammel-ddআদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, তিনি রায়ের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন। তিনি আজ রোববার মুঠোফোনে এ কথা জানান।

তবে মন্ত্রী বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটা আদালতের এখতিয়ার। সেই এখতিযার আদালতের আছে। এখন তিনি নিয়ম অনুযায়ী এই রায়ের বিষয়ে পুনর্বিচেনার (রিভিউ) আবেদন করবেন।

আদালত অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজ মন্ত্রণালয়ে যাননি মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। যোগাযোগ করা হলে দুপুর ১২টার দিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর জনসংযোগ কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মন্ত্রী বাইরে আছেন। মন্ত্রণালয়ে আসবেন কি না, তা তাঁরা জানেন না।

আদালত অবমাননার দায়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে দোষী সাব্যস্ত করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আট সদস্যের বেঞ্চ আজ সকালে এ আদেশ দেন।

সর্বোচ্চ আদালতে আজকের এই আদেশের পর দুই মন্ত্রী স্বপদে থাকতে পারবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এই বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার পক্ষে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব না। সংবিধানে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে এর সঙ্গে নৈতিকতার ব্যাপারটি জড়িত। পরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত ​নেবে।

আদেশে আদালত বলেন, দুই মন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে যে আবেদন করেছেন তা আমরা গ্রহণ করতে রাজি নই। আবেদনকারীরা মন্ত্রী, সাংবিধানিক পদধারী। তাঁরা সংবিধান রক্ষার শপথবদ্ধ। তাঁরা যে মন্তব্য করেছেন, প্রধান বিচারপতি ও সর্বোচ্চ আদালতকে অবমাননা করে তাঁরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমাদের কাছে উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। যদি তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে যেকোনো ব্যক্তি বিচার বিভাগ সম্পর্কে একইরকম অবমাননাকর বক্তব্য দেবেন। এ জন্য তাঁদের আমরা গুরুতর আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করছি। তবে তাঁরা প্রথম সুযোগেই নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো হচ্ছে। দুই মন্ত্রীকে আগামী সাত দিনের মধ্যে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে এই টাকা জমা দিতে হবে।

আদালতে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন, আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিক-উল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আদালতে উপস্থিত হলেও সরকারি কাজে বিদেশে থাকা খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছিলেন না। ওই দিন তাঁদের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি মুলতবি করে ২০ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করেন। ২০ মার্চ দুই মন্ত্রীই আদালতে হাজির হন। তবে ওই দিন কামরুল ইসলামের লিখিত ব্যাখ্যা আদালত গ্রহণ করেননি। নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আদালত কামরুল ইসলামকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সময় দেন। ২৪ মার্চ নতুন করে ব্যাখ্যা জমা দেন খাদ্যমন্ত্রী।

৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির আদেশ পাওয়া মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা পুনরায় শুনানির দাবি জানান। ওই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.