বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ প্রত্যাহারের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর জানতে পেরেছে রবিবার। তাও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানানোর পর। এরপর থেকে এ বিষয়ে পুলিশ সদস দফতর খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছে। আর এই রেড নোটিশ প্রত্যাহার হয়েছে গত ১৪ মার্চ।
লন্ডনে তারেক রহমানের আইনজীবী ডেভিড রিখটা গত ২২ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১৪ মার্চ তারেক রহমানের নাম রেড নোটিশ থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় ইন্টারপোল কমিশন এবং এর পরই তা সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেডে হামলার সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং মামলার ষষ্ঠ তদন্তকারী সিআইডির কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দের তদন্তকালে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। ২০১৫ সালে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।
ডেভিড রিখটা বলেন, ‘২০১৫ সালের ২ জুলাই আমরা ইন্টারপোল কমিশনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই শুরু করি। ১৪ মার্চ কমিশন তারেক রহমানের রেড নোটিশকে অবৈধ এবং ইন্টারপোলের ৩ অনুচ্ছেদ বিরোধী বলে সিদ্ধান্ত দেয় এবং অনতিবিলম্বে তারেকের নাম প্রত্যাহারের আদেশ দেয়।’ ডেভিড রিখটার এই সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ইউটিউবেও ছাড়া হয়েছে।
এদিকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পাতায় গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশি মোট ৬৩ জনের নাম ও ছবি দিয়ে এখন রেড নোটিশ রয়েছে। তার মধ্যে তারেক রহমানের নাম বা ছবি নেই। বিএনপি নেতাদের মধ্যে একমাত্র হারিস চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখনও রেড নোটিশ আছে।
এ নিয়ে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর (এনসিবি) এআইজি রফিকুল গনি বলেন, ‘ইন্টারপোল বিষয়টি আমাদের জানায়নি। আমরা জেনে এখন যোগাযোগ করছি। জানতে চেষ্টা করছি কেন এবং কীভাবে তারেক রহমানের নাম ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থেকে প্রত্যাহার করা হলো।’
ইন্টারপোলের ওয়েব সাইটেও এ নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা নেই।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয় ২০১৫ সালের এপ্রিলে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পাতায় তখন তারেক রহমানের নাম, ছবি ও বিবরণ দিয়ে বলা হয়, তার জন্ম ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষা জানেন। তবে ইন্টারপোলের নোটিশে মামলার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। বলা ছিল, ওয়ান্টেড বাই দ্য জুডিশিয়াল অথরিটি অব বাংলাদেশ।
তবে পুলিশ সদর দফতর থেকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায়ই তারেককে পলাতক দেখিয়ে ইন্টারপোল সদর দফতরে রেড নোটিশের আবেদন এবং কাগজ পত্র পাঠানো হয়েছিল। এই গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত হন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েক শ’ লোক আহত হন।
২০০৮ সালের ১১ জুন এ মামলায় ২২ জনকে আসামি করে সিআইডি প্রথম অভিযোগপত্র দেয়। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক আছেন। আসামিদের তালিকায় আরও আছেন জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান।


