কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে তনুর লাশ উত্তোলন করা হয়।
গত সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন।
সোমবার মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি ও পুনরায় ময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন কুমিল্লার একটি আদালত। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি একেএম মনজুর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
লাশ উত্তোলনের সময় ঢাকা সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম, কুমিল্লারা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, লাশ উত্তোলনের জন্য দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কুমিল্লা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ও বড় ভাই নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কবরস্থানের পাশে মাঠে একটি সামিয়ানা টানানো হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের লোকজন অবস্থান করেন। সকাল থেকে কবরস্থানে পাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের বেগ পেতে হয়। যাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে তনু হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তনু হত্যার সঠিক বিচারের জন্য লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। আমি মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার চাই।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, লাশ উত্তোলন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে। অধিকতর আলামত সংগ্রহের পর সেখান থেকে আজই আবার লাশ এনে আগের কবরে দাফন করা হবে।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে গত ২১ মার্চ রাতে তনুকে দাফন করা হয়। আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহের জন্য আজ তার লাশ তোলা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে সোহাগীর কবর পাহারা দিচ্ছে বাঙ্গরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
এদিকে তনু হত্যাকাণ্ডের ৯দিন পার হলেও হত্যাকারীরা শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও তার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ হয়েছে। আজও বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে কুমিল্লায়।
২০ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রতিদিনের মতো তনু ঘর থেকে বের হন। বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে। কিন্তু চেষ্টা ব্যর্থ হলে যে বাসায় টিউশনি করতেন সেখানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই বাসা থেকে তিনি বের হয়ে গেছেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। গলাকাটা মৃতদেহ নগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর পড়েছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। মোবাইল ফোনটিও পড়েছিল পাশে।কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও থিয়েটারের নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর বাবা মো. ইয়ার হোসাইন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ছিলেন। তনুর বাবা অনেক দিন ধরেই অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট তনু।


