বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

নাটকীয় জামিনে কারামুক্ত ফখরুল

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বুধবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরই একটি নাশকতার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান ফখরুল। তার ওই আবেদন নাকচ করে বুধবার দুপুর ১টায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী।

এর পরই এজলাস থেকে ফখরুলকে নেওয়া হয় কোর্ট হাজতখানায়। সেখান থেকে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তৎপর হন বিএনপির আইনজীবীরা। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন নাকচের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে আইনজীবীরা ফের যান আদালতে। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে একই বিচারক জামিন দিয়ে দেন ফখরুলকে।

বিকাল ৪টায় আদেশের পরপরই ফখরুলের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, “এখন কোর্ট হাজত থেকেই ছেড়ে দেওয়া হবে বিএনপির মহাসচিবকে।”

তবে বিএনপির মহাসচিবকে তার আগেই বেলা আড়াইটার দিকে কারাগারে আনা হয় বলে জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষক মোহাম্মদ নেছার আলম।

ফলে আদালতের আদেশ পৌঁছার পর ফখরুলকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বিকাল ৫টায় বলেন, “বেইল বন্ড সই হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা কারাগারে যাব।”

ঢাকার আদালতে বুধবার চার ঘণ্টার মধ্যে ফখরুলের জামিন নাকচ এবং তারপর নাটকীয়ভাবে জামিনের এই আদেশ হয়।

সকালে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নতুন মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করা হয়।

তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে নাশকতার তিনটি মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকার হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ফখরুল।

পল্টন থানার এই তিন মামলার একটিতে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর হলেও বাকি দুটিতে জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন হাকিম গোলাম নবী।

নতুন মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যখন ফুল হাতে নয়াপল্টনে ভিড় করছিলেন, তখনই ফখরুলকে কারাগারে পাঠানোর খবরে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সদ্য পদোন্নতি পাওয়া জ্যেষ্ঠ যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফখরুলকে কারাগারে পাঠানো সরকারের ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ অংশ।

“ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির মহাসচিবকে কারাগারে পাঠিয়ে এই জঘন্য কাজটি করেছেন।”

তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফখরুলের জামিনের আদেশ হওয়ার পর বিএনপি নেতাদের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নাশকতার মামলায় ফখরুলকে গত বছরও বেশ কয়েক মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল। এরপর অসুস্থতার কারণে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে জামিন নিয়ে তিনি বিদেশে চিকিৎসাও করিয়ে আসেন।

বুধবার ঢাকার আদালতে শুরুতে ফখরুলের জামিন হয় ২০১৫ সারের ৪ জানুয়ারির একটি মামলায়। ৫ ও ৭ জানুয়ারি দায়ের হওয়া মামলায় আবেদন নাকচ হয়েছিল।

জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের মধ্যে নাশকতার এই তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে রুল জারি করা হয়েছিল।

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে সর্বোচ্চ আদালত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফখরুলকে জামিন দিয়ে তারপর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলে।

গত ২৪ নভেম্বর হাই কোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে মির্জা ফখরুলকে তিন মাসের জামিন দেয়। স্থায়ী জামিন না হওয়ায় এরপর আপিলের অনুমতি চান ফখরুল।

ওই আবেদনের  নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফখরুলকে আত্মসমর্পণের জন্য ১৫ দিনের সময় দেয়।

আরও পড়ুন