বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪ সালের ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে শিল্পোদ্যোক্তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।
তিনি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং সেইসঙ্গে সময়মত ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
“শিল্পায়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের বিকাশ অপরিহার্য। দেশে বেসরকারি খাত যতো বেশি শক্তিশালী হবে, শিল্পায়নের ধারা ততো বেশি বেগবান হবে। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে।”
বিশেষ করে, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের এক অংকের সুদে ঋণ দেওয়াসহ নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও এ লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে তিনটি করে নয়টি, কুটির শিল্পে একটি এবং হাইটেক শিল্পে দুটি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার দেওয়া হয়।
বৃহত্ শিল্প ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড, ঢাকার আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্প নগরীর বিআরবি কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজ এ পুরস্কার পেয়েছে।
মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন, এগ্রিকেয়ার ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট এবং খুলনার জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুড্স লিমিটেড পেয়েছে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার।
ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে নরসিংদীর হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স, চট্টগ্রামের এডেসান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও পাবনার প্রিন্স কেমিকেল কোম্পানি এ পুরস্কার পেয়েছে।
কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছে মানিকগঞ্জের জননী উইভিং ফ্যাক্টরি। আর হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও ঢাকার সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি হামিদ।
তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। তাই পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনেও বৈচিত্র্য আনতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো পণ্য বা সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক গতিধারার সাথে তাল মিলিয়ে শিল্পোৎপাদনে বহুমুখী ধ্যান-ধারণা প্রয়োগ করতে হবে।”
শিল্প উদ্যোক্তাদের ‘শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ’ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “উৎপাদন ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। অন্যান্য উপকরণের সাথে শ্রমিকরা হচ্ছে শিল্পের মূল সহায়ক শক্তি। উৎপাদনের জন্য শ্রমিকদের শ্রম ও দক্ষতা অপরিহার্য। মালিক-শ্রমিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক শিল্প খাতের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই আমি উদ্যোক্তাদের প্রতি শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী ১৫ বছরে ১০০টি ইকোনোমিক জোন গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এসব ইকোনোমিক জোনের একটি বড় অংশ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে। সেখানে কর রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সমানভাবে ভোগ করবেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে শিল্প সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।


