বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কলকাতায় ফ্লাইওভার ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫

kolkata_flyover_crash_8587ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।

এছাড়াও আরও দেড় শতাধিক মানুষ ফ্লাইওভারে ভেঙে পড়া অংশের নিচে চাপা পড়ে আছে। এ কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ মারাত্মকভাবে থেঁতলে বা পুড়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারছেন না।

সরকারি কর্মকর্তারা এখনো পর্যন্ত মোট ১২জনকে শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে উত্তর কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলের জোড়াসাঁকো এলাকায় নির্মাণাধীন ১২টায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারের ২৫০ মিটার অংশ ধসে পড়ে।

সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই পথচারী, হকার, বাস, প্রাইভেটকার, ও অটোরিকশার ওপর ফ্লাইওভারে বিশাল অংশ ধসে পড়ে।

এ সময় ফ্লাইওভার সংলগ্ন বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে দৌঁড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।
ঘটনার পরপরই আহতদের অনেককে উদ্ধার করে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মেঝে রক্তে ভেসে গেছে এবং হতাহতদের মধ্যে স্বজনরা আছে কিনা তা শনাক্ত করতে লোকজন ছুটাছুটি করছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫০০ সেনা সদস্য ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে। রাতভর চলা উদ্ধারকাজে ১৪ থেকে ১৫টি ক্রেন নামিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সুপ্রতিম সরকার  বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার ও উদ্ধার অভিযান কখন শেষ হবে আমরা বলতে পারছি না। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের যা বলেছেন, সে তুলনায় আমরা খুব সামান্য উদ্ধার করতে পেরেছি।’

নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

২০০৯ সাল থেকে বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে হায়দরাবাদের ঠিকাদার সংস্থা আইভিআরসিএল।

নির্ধারিত সময়সীমা কয়েক দফা পার করেও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

কাজে গাফিলতির অভিযোগে এরই মধ্যে তাদের কার্যালয় সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। পোস্তা থানায় প্রতিষ্ঠানটি বিরুদ্ধে মামলা করেছে পশ্চিবঙ্গ রাজ্য সরকার।

এদিকে নিহতদের স্বজনরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।

তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে আইভিআরসিএল-এর কর্মকর্তা কে পান্ডুরাঙ্গা রাও বলেন, এটা ঈশ্বরের কাজ। ২৭ বছর ধরে আমরা বেশ কিছু সেতু নির্মাণ করেছি, এ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এমন ঘটনা কী করে ঘটলো, সেই বিষয়টিতে তারা আশ্চর্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মমতার পাশে মোদি
এদিকে ফ্লাইওভার ধসের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃনমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল সিপিআইএম পরস্পরকে
দোষারোপ করলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর পাশে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ওয়াশিংটন সফররত মোদি শুক্রবার মমতা ব্যানার্জিকে ফোন করে উদ্ধারকাজে পশ্চিমবঙ্গকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন।

মোদির কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় এ খবর জানায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার ফ্লাইওভার ধসের খবর পেয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরে নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিল করে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন