বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সিইসি রকিব এক মাঘে শীত যায় না: বিএনপি

cec-bnpইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে ব্যাপক সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধানের শীষের অপমান এড়াতে পরবর্তী সব ধাপের নির্বাচন বর্জনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন বিএনপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে দুই আলোচনা সভায় তারা ওই যুক্তি তুলে ধরে দলের নীতি-নির্ধারকদের তা আমলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নাগরিক সংসদ আয়োজিত সভায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা, পুলিশরা, প্রিজাইডিং এজেন্টরা সবাই মিলে নৌকায় ভোট দিয়েছে। আর নৌকার লোকেরা তো আছেই।

“এটা কি ভোট হয়েছে? এটা ভোট না, এটা ভোট না, এটা বোট (নৌকা)। এটার মধ্যে আপনি (বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব) যান কেন?”

ইউপি নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ভোট হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ধাপের নির্বাচন সামনে। আমার মনে হয়, ইট ইজ হাই টাইম।

“এই নির্বাচনকে আমাদের তরফ থেকে বর্জন করা উচিৎ। এই নির্বাচন এভাবে আর করা ঠিক হবে না। আমাদের প্রতীককে অপমান করা হচ্ছে, ধানের শীষকে অপমান করা হচ্ছে।”

স্থানীয় সরকারের তৃণমূলের এই নির্বাচন এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দশম সংসদ বর্জনকারী নবম সংসদের বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, এই ভোটের নামে তামাশা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের উদ্দেশে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, “আমি অনুরোধ করব, আমাদের দলের নীতি-নির্ধারকদের, যেটা গেছে, গেছে।

“এদের কাছ থেকে নির্বাচন চান? এদের কাছ থেকে ভোট চান? এরা ভোট দেবে না। এবার নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করুন।

অল কমিউনিটি ফোরাম আয়োজিত আরেক আলোচনা সভায় মাহবুবুর রহমান বলেন, “গতকাল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ছিল। গোটা দেশজুড়ে আমরা কী দেখলাম- শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে।

“এর কয়েকদিন আগেও যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানেও মঠবাড়িয়াসহ বিভিন্নস্থানে ১০ জন নিহত হয়েছিল। গোটা দেশজুড়ে কী হচ্ছে ? একটা রক্তের হোলি খেলা হচ্ছে।”

‘কিসের, কেন ও কার জন্য’ এই নির্বাচন- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশ মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। লাশের মিছিল চলছে। এটা হতে দেওয়া যায় না। আমি মনে করি, এভাবে রক্তপাতের নির্বাচন আমরা চাই না, এটা সুফল বয়ে আনবে না।”

দুই অনুষ্ঠানেই নির্বাচনী সহিংসতার জন্য ইসিকে দায়ী করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপির দুই নেতা।

মাহবুবুর রহমান বলেন, “সিইসি যতই আস্ফালন করে বলুন, আমার অর্জন অনেক। ছোট একটু ঘটনায় অর্জন ম্লান হয়ে গেছে। এজন্য আমি দায়ী না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়ী।

“আমি বলব, না। নির্বাচনের সবকিছুর জন্য দায়ী তুমি, একমাত্র তুমি। কারণ নির্বাচনের সময়কালে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও আরও শক্তিশালী। সিইসিকে সেইসময়ে সুপার প্রাইম মিনিস্টার বলা হয়ে থাকে।”

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসির পদত্যাগ ও তার বিচার দাবি করে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, “আমরা এই নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রকিবউদ্দীন আহমদের বিচার হতে হবে।

“রকিব তুই ভাবছস কী, এক মাঘে শীত যায় না। এভাবেই দিন চলবে? দীর্ঘদিন এই হাসিনার সরকার থাকবে? এটা হবে না।”

আরও পড়ুন