কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ভিক্টোরিয়ার শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ন্যায়বিচার আঠারো শতকের আইন দিয়ে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। ঘৃণ্য এ হত্যার তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শাহ আলমের লেখা দুটি বইয়েরে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি শনিবার এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশের বেশির ভাগ আইন অচল হয়ে গেছে। এসব আইনের ব্যবহারের কার্যকারিতা অনেক কম। এসব আইনের ব্যাপক সংস্কার করা না হলে বিচার বিভাগ আরো মুখ থুবড়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যদের বেশির ভাগ আইন বিষয়ে অজ্ঞ। এজন্য আইনের যুগোপযোগী সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।’
রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, এ দেশের যেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, সেখানে বিচার বিভাগ আলাদা কোনো দ্বীপের মতো নয় যে সব জায়গায় অনিয়ম থাকবে আর বিচার বিভাগের সব ফেরেশতা হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। বিচার বিভাগেও কিছু অনিয়ম আছে কিন্তু সেটা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের বেশি না। এই প্রক্রিয়া মেনে নিয়েই আমাদের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে সংসদে আইনের ওপর ব্যাপক আলোচনা-বিতর্ক হতো। কিন্তু এখন কোনো বিতর্ক হয় না, আলোচনা হয় না। ফলে আইনসভায় আইনের চর্চা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য এখনকার প্রত্যেকটা আইন ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়। জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে যান। বিচার বিভাগে চাপ পড়ে।’
উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের রায় কেনা বেচা হয় কারো কারো এমন মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক নয়। এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্যায় দুর্নীতি সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগেও হতে পারে তবে সেটি অনেক বেশি নয়, ৫ থেকে ১০ ভাগ।’
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার পাওয়ার হাউস পানির ট্যাংকির কাছে তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তার বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তনু হত্যার বিচারের দাবিতে সারাদেশে চলছে আন্দোলন।


