কাগজে ছাপানো বন্ধ করে অনলাইনে যাওয়ার একদিন পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাদের অনুরোধে ফের কাগজেও ছাপানো হবে হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকা (কজলিস্ট)।
মঙ্গলবার ০৫ এপ্রিল থেকে আরও তিন মাস অনলাইনের পাশাপাশি কাগজেও ছাপানো হবে কার্যতালিকা।
হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ জানান, আইনজীবী সমিতির নতুন নেতৃবুন্দের অুনরোধে প্রধান বিচারপতি কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা আরও তিন মাস রাখার সম্মতি দিয়েছেন।
এর আগে রোববার (০৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘অদ্য ০৩/০৪/২০১৬ খ্রি. থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন কজলিস্ট অনুসারে’।
গত বছরের ০১ নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া অনলাইন কজলিস্টের সফল বাস্তবায়ন শেষে গত ০১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজে ছাপা কজলিস্ট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে তার পরিবর্তে অনলাইন কজলিস্ট চালুর কথা ছিল।
গত ২৮ জানুয়ারি সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।
ওইদিন বিকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অনুরোধে ১৪ দিন কাগজে ছাপানো কজলিস্টের মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে আরও এক দফা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। সে অনুসারে রোববার থেকে কাগজের কজলিস্ট উঠিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু সোমবার (০৩ এপ্রিল) সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করে অনলাইনে অভ্যস্থ হওয়া পর্যন্ত কাগজের কজলিস্ট রাখার অনুরোধ করেন।
এ অনুরোধে আরও এক দফা সময় বাড়ালেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জানান, কাগজের কজলিস্ট ছাপতে প্রতিটি কজলিস্টের পেছনে ৪শ’ টাকা খরচ পড়ে। যার খরচ বছরে দাঁড়ায় ২১ কোটি টাকা। অথচ গ্রাহক চাঁদা বাবদ মাত্র ৬০ লাখ টাকা আসে।
প্রতিদিনের ছাপা কজলিস্টের কলেবর বহনযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব নয়। কারণ, প্রায় ৪শ’ পৃষ্ঠার এ কজলিস্ট ছাপাতে প্রতিদিন ৬৫টি গাছ কাটতে হয়। তাই পুরোপুরি অনলাইনে যাওয়ার পর এ গাছও রক্ষা পাবে।


