বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছেলেদের বন্ধুত্বের বিষয়ে মেয়েদের যা জানা দরকার

64370_193734Man-friendshipএকটা ছেলে আর একটা মেয়ের বন্ধুত্ব বেশ উপভোগ্য হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলেদের বন্ধুত্ব অতুলনীয় বিষয়। প্রতিযোগী দলেন একটি উইকেট পড়ে গেলে, প্রথম মটোরসাইকেল কেনার পর বা বাবার মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে বন্ধুরা মিলে রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার মজা মেয়েরা পায় না।

আধুনিকতা ছেলে-মেয়েদের মেলামেশা বৃদ্ধি করেছে। তারপরও ‘ব্রোমান্স’-এর তুলনা কোথাও নেই। পছন্দের খেলা নিয়ে তুমুল আলোচনা, নতুন চাকরির সেলিব্রেশন বা নতুন কোনো গেজেট কেনার আনন্দ ছেলেরাই তাদের ছেলে বন্ধু নিয়ে একটু বেশিই উপভোগ করেন।

সাধারণত মেয়েদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু থাকে তাদের জীবন ও ভবিষ্যত নিয়ে। মেয়েরা বিষয়টি খেয়াল করে দেখবেন, সদ্য পরিচিত কোনো পুরুষকে নিয়ে আপনার ভাই বা স্বামী কতটাই না মজা করছেন। দেখলে মনে হবে তারা বহু পুরনো বন্ধু। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে তা যেন অসম্ভব কোনো বিষয়।

‘ডেটিং অ্যান্ড ম্যারিজ ডায়ারিজ ইন আরবান ইন্ডিয়া:
আ নো-ননসেন্স গাইড টু ফাইন্ডিং ইওর পারফেক্ট পার্টনার’ বইয়ে লেখক সাহিল ঠাকরে জানান, একটা মেয়েকে তার জীবনের গোপনীয় বা ব্যক্তিগত বিষয় অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করতে দেখবেন না। কিন্তু একটা ছেলে নতুন পরিচিত বন্ধুর সঙ্গে অনায়াসেই করতে পারেন। পারস্পরিক বিশ্বস্ততা তারা খুব দ্রুত অর্জন করে নিতে পারেন।

জাতি-গোত্রভেদে সবখানেই পুরুষদের অনেক শক্তিশালী এবং পরিচালক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা দুর্বলতা প্রকাশন নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে কথা বলাকে তারা দুর্বলতার লক্ষণ বলেই ধরে নেন।

তবুও সমস্যা আছে:
বয়সের পার্থক্যে ছেলেদের সঙ্গে ছেলেদের বন্ধুত্বে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। কারণ বয়স, চিন্তাধারা ও স্বভাবের কারণে তাদের মধ্যে ততটা মেলে না। এ ক্ষেত্রে তাদের মাঝে সহনশীলতার অভাব দেখা দেয়। অথচ তা ভালো বন্ধুত্ব সৃষ্টির অন্যতম শর্ত।

নারীরা পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি নরম মনের অধিকারী। তারা আরো বেশি সহমর্মী। তাই ছেলে ও মেয়ের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুরো ভিন্ন। সাধারণত ছেলেরা মেয়ে বন্ধু পছন্দের ক্ষেত্রে একই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্র বেছে নিতে পছন্দ করেন। অভ্যাস বা স্বভাবের মিল আরো আগ্রহী করে তোলে ছেলেদের।

ছেলেদের বন্ধুত্ব যে কারণে অনন্য:
তারা বিচারসুলভ মানসিকতা রাখে না : হয়তো ছেলেটি ঘন ঘন তার প্রেমিকা বদলায়। কিন্তু তার কাছের বন্ধুটিও এ বিষয়ে তার স্বভাব বিচার করতে যাবে না। কারণ তারা বন্ধুত্বের মাঝে জটিলতা পছন্দ করেন না।

সরাসরি মন্তব্য করা:
একটা মেয়ে তার বান্ধবীর বিষয়ে কিছু বলার আগে বহু কাজ করে নেন। তিনি তার আবেগ সামলে নেন, কি কি বলবেন তা ঠিকঠাক করে নেন ইত্যাদি। কিন্তু ছেলেরা তার বন্ধুর প্রসঙ্গে সরাসরি খোলামেলা কথা বলে থাকেন। তারা ঘুরিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন না। তারা সমস্যার চেয়ে বন্ধুত্ব উপভোগ করতেই বেশি পছন্দ করেন।

বাস্তবতা:
ছেলেরা বন্ধুত্বের বিচারে খুব বেশি আবেগের খরচ করেন না। তাদের বন্ধুত্ব অনেক বেশি বাস্তবিক। তারা বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন। মেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার ছেলে বা মেয়ে বন্ধুর দোষ-ত্রুটি খুঁজতেই ব্যস্ত থাকেন বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য এ ক্ষেত্রে বহু জনের বহু মন্তব্য পাওয়া যাবে। কিন্তু ছেলেরা এসব বিষয়ে মোটেও আগ্রহী থাকেন না, অন্তত মেয়েদের মতো।

গুরুত্ব:
প্রাচীন আমল থেকেই বন্ধুত্বের বিষয়ে ছেলেরা অনেক আগ্রহী ও সচেতন। আবেগ ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেই ছেলেরা বন্ধুত্ব গড়তে আগ্রহী। টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন