জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলেছে, বাংলাদেশের কিছু ব্লগারকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপ-মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, “চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকা নির্দষ্ট সংখ্যক ব্লগারের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে, এ বিষয়টি বিবেচনায় আছে।”
একের পর এক জঙ্গি হামলা ও হুমকির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার, লেখকদের যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দিতে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির কাছে সুপারিশ করে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম- ইউএসসিআইআরএফ।
ওই চিঠির প্রসঙ্গ তুলেই এক সাংবাদিক টোনারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- ব্লগারদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না।
টোনার বলেন, বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের আওতাধীন। এ বিষয়ে তার হাতে খুব বেশি তথ্য নেই।
পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র ব্রিফিংয়ের শুরুতেই নাজিম হত্যার প্রসঙ্গ তোলেন। ২৭ বছর বয়সী নাজিমকে বুধবার রাতে ঢাকার সূত্রাপুরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সিলেটে গণজাগরণ আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে কাজ করা নাজিম ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন। এর আগে ব্লগার-লেখক-প্রকাশক হত্যার ঘটনাগুলোর মতো একই কায়দায় খুন করা হয়েছে নাজিমকে।
এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে টোনার বলেন, সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। বলছে, “আমরা নাজিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। বাংলাদেশে যারা সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”
টোনার বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন ও মুক্তমতের যে গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী, তা সহিংসতার কাছে পরাজিত হওয়ার নয়- এটা নাজিমুদ্দিন জানতেন; বাংলাদেশের ইতিহাসও সেই সাক্ষ্য দেয়।”
সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং এ ধরনের নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাবে বলে পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও সামাদ হত্যার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে।


