রবিবার ২৪ মার্চ ২০১৯
বিশেষ নিউজ

প্রয়োজন খালেদা-তারেক বিহীন বিরোধী দল


NEWSWORLDBD.COM - April 9, 2016

khaleda-tareq_74030মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু: বাংলাদেশে এখন এক দলীয় শাসন চলছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন। এ ব্যাপারে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া পৌর নির্বাচনের উদাহরণও তুলে ধরেছেন অনেকে। বলা  হচ্ছে যেদিকে দৃষ্টি যায় সেদিকেই শুধু সরকারি দল ছাড়া আর কিছুই লক্ষণীয় নয়। বিরোধী দল বলে দেশে আজ আর কোনো কিছু নেই। তবে মিডিয়ায় বিভিন্ন দলের নামে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করতে দেখা যায়। এছাড়া অন্য কোনো সাংগঠনিক কার্যকলাপ চোখে পরে না। ফলে সরকারি দলের জন্য পওয়াবারো বলতে হবে। দেশে বিরোধী দলের কোনো ভূমিকা না থাকাতে বর্তমান সরকার যে শক্ত অবস্থানে আছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। অতীতে আর কোনো সরকার এমন শক্ত অবস্থানে ছিল না যা বর্তমান সরকারের বেলায় হয়েছে। তাহলে এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে দেশের এই সার্বিক রাজনৈতিক শুন্যতার জন্য দায়ী কে? কেন আজ বিরোধী দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই? কেন আজ দেশে বিরোধী দলগুলো থমকিয়ে দাঁড়িয়েছে? কেন আজ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির এই করুন অবস্থা? এর জন্য দায়ী কে? দেশের একসময়ের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতারা আজ কোথায়? এই প্রশ্নগুলো আজ জনগনের সামনে বার বার নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের নিপীড়ন নির্যাতন তো এর আগেও ছিল। এখনো আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। অতীতে রাজনৈতিক দলের আন্দোলনকে পুলিশ বাহিনী দিয়ে থামানোর চেষ্টা করা সত্তেও দাবিয়ে রাখা যায়নি। তাহলে আজ কেন হলো এমন পরিস্থিতি? আজ কেন রাস্তায় নাই বিরোধী দল? বর্তমান সরকার তো আর ধওয়া তুলসী পাতা নয় যে তারা যা করছে সব কাজই ভালো করছে। এই জন্যই দেশে এখন একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন জনগণ অনুভব করছে।

বিএনপির বর্তমান দুরবস্থার কারণ লিখতে হলে আমাদের পেছন ফিরে তাকাতে হবে। সামরিক বাহিনী প্রধান ও পরবর্তিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান যখন নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি আওয়ামী লীগ বিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত এই নুতন দলে টেনে এনেছিলেন। ক্ষমতার মোহে তখন বাম ডান, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ও ক্ষমতালোভী কিছু মুক্তিযুদ্ধা জিয়ার ডাকে সারা দেয়। জিয়ার  প্রতিষ্ঠিত এই রাজনৈতিক দলটির প্রকৃত আদর্শ বলতে কিছুই ছিল না। অনেকটা বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে যেভাবে কাছে টেনে এনেছিলেন ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমান আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও সাথে পাকিস্থানী স্টাইলে ইসলামিক আদর্শের  স্লোগান। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ও  আওয়ামী  লীগ  বিরোধী  যারা একদিন জাসদে ছিল তারা  তখন  জাসদ  থেকে  সরে  গিয়ে  জিয়ার  প্রতিষ্ঠিত  নুতন  রাজনৈতিক  দল  বিএনপিতে এসে আস্থানা  গাড়ে। ফলে  শক্তিশালী  জাসদ  রাতারাতি  হয়ে  যায়  দুর্বল।  শুধু  তাই  নয় নেতৃত্বের কোন্দলে বিভক্ত হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

এদিকে নানা  মত  ও নানা  আদর্শের  বেক্তিদের  বিএনপিতে আগমনের ফলে  শুরু  থেকেই  দলের  ভেতরে  চলে ক্ষমতার  লড়াই। এমনি এক দন্ধের মিমাংসা করতে গিয়ে  চট্টগ্রামের  সার্কিট  হাউসে  স্থানীয়  সামরিক বাহিনীর হাতে শেষ পর্যন্ত জিয়াকে  প্রাণ দিতে হয়েছে।  তবে জিয়াকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ও  হত্যা করার চেষ্টা এর আগেও অনেকবার সামরিক বাহিনী থেকে করা হয়েছিল। কিন্তু এসকল অভ্যুত্থান বের্থ হলে পরবর্তিতে চতুর জিয়া কৌশলে তাদের ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে দেন। এজন্যই আজ অনেকে সামরিক বাহিনীর অফিসার হত্যার জন্য জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে  অভিযোগ করে থাকেন।

জিয়ার মির্তুর পর জাসদের মত বিএনপির অবস্থা হওয়ার কথা ছিল। কারণ দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের লড়াই তখন তুঙ্গে। কিনতু তখনি গোয়েন্দা বিভাগের পরামর্শে দলকে  টিকিয়ে  রাখার  জন্য  জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম  খালেদা জিয়াকে সামনে নিয়ে আসা হয়। একজন সামরিক বাহিনী  প্রধান ও রাষ্ট্রপতির স্ত্রী হিসেবে বেগম  খালেদা জিয়ার দৈনন্দিন জীবন ছিল তখন অতিরিক্ত বিলাসবহুল। রাজনীতির ধরে কাছে তিনি কখনো ছিলেন না। খালেদা জিয়া সাধারণ মানুষের কাছে কখনো আসেননি। কিংবা আসার  সুযোগ হয়নি। তবুও  বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ওই সময় বেগম  খালেদা জিয়া ছাড়া আর  কোনো বিকল্প ছিল না। বেগম খালেদা জিয়াকে দলের নেতৃত্বে পেয়ে বিভিন্ন দল থেকে আসা রাজনৈতিক বেক্তিরা সামনে আলোর সন্ধান খুঁজে পায়।

এদিকে বিএনপির সহযোগিতায় ভেতরে ভেতরে এগিয়ে আসে পাকিস্থান ফেরত কয়েকজন উর্ধতন বাঙালি সামরিক অফিসার। এদের ইশারায় সামরিক বাহিনীর গোয়ান্দা বিভাগ আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার জন্য উঠে পরে লাগে। জিয়া বিহীন বিএনপি যেন দুর্বল না হয়ে যায় সেই লক্ষে তারা কাজ শুরু করে। ফলে পাকিস্থান ফেরত কয়েকজন সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন অফিসারদের সরাসরি সমর্থন পেয়ে বিএনপি আগের মতই শক্ত অবস্থানে বিরাজ করতে থাকে।  এভাবেই জিয়ার পরবর্তিতে আওয়ামী লীগের  বিকল্প রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি  বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়। বিএনপির শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করে ছোটো খাটো রাজনৈতিক দল থেকে আসা সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা বিএনপিতেই  পরে  থাকেন। এইসময় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে পদার্পনের বিপক্ষে তার পিতা মাতা মিডিয়ায় কথা বললেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।

দলের প্রধান হয়ে বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী  জিয়াউর রহমানের  চেয়ে  আরো  এক  ডিগ্রী সামনে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের  বিরোধিতাকারী ও বুদ্ধিজীবী  হত্যার  দায়ে  স্বীকৃত  জামায়াতের সাথে সরাসরি জোট বাধেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের  সমালোচনাকারীরা বলেন আওয়ামী  লীগ তো একসময় জামায়তকে সাথে নিয়ে বিএনপি  সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন  করেছে। তখন তো কোনো  দোষ  হয়নি। তাহলে এখন কেন হবে?  এর প্রতি উত্তরে আওয়ামী লীগারদের বক্তব্য হলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে  সরকার বিরোধী আন্দোলনে ওই সময় জামায়াত ও এরশাদের  জাতীয়  পার্টি  এসে  যোগ  দেয়। শুধুমাত্র  এইটুকুই। অন্য কিছু নয়। জামায়াতকে   নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো জোট গঠন করেনি, সরকার গঠন করেনি।  সুপরিচিত রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে মন্ত্রী করা হয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতকে বাংলাদেশের  রাজনীতিতে  পুনর্বাসিত করেছেন। তিনি  জামায়াতকে সাথে নিয়ে ঐক্য জোট  গঠন করেছেন। এখনো তিনি পরিচিত রাজাকার  জামায়াত নেতাদের মঞ্চে বসিয়ে  তাদের  রক্ষার্থে  বক্তব্য  দিয়ে যাচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি জামায়াতকে সাথে নিয়ে  স্বাধীনতার  ইতিহাসকে বিকৃত করে জনগণকে বিভ্রান্ত  করার  চেষ্টা  করে  চলছেন।

এদিকে পাকিস্থান ফেরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা ৯১ নির্বাচনে কৌশলে বিএনপিকে জয়ী করে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অনেকে অভিযোগ করে থাকেন। পর্যবেক্ষক মহলের মতে ৯১ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ওই সময় বিএনপি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যেতো। তাদের অবস্থা অনেকটা জাসদের মত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিতো। এই কারণেই আওয়ামী লীগ বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ও সাথে পাকিস্থান ফেরত বেশ কয়েকজন বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্ত করে সফল হন। যার ফলশ্রুতিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়  বসে। ক্ষমতাসীন দল হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বিএনপিকে নুতন করে শক্তিশালী করার সুযোগ লাভ করেন।  কিন্তু পরবর্তিতে নানা ভুল সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি, ক্ষমতার অপবেবহার ও দলীয়করণ করার কারণে দলটি জনগনের আস্থা হারায়। ফলে ৯৬ নির্বাচনে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারের কাজ শুরু করে। এই হত্যার বিচার যাতে না করা যায় এজন্য বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোস্তাকের শাসন আমলে জারি করা ইনডেমনিটি আইনকে বাতিল করা হয়। এই ইনডেমনিটি আইন জিয়াউর রহমান, হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকার এতদিন বৈধ রেখেছিলেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীই নয় সাথে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকারদের বিচারের কাঠ গোড়ায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নেয় শেখ হাসিনার সরকার। ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রকারী পাকিস্থান ফেরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকেই অবসরে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেন। যারা অবশিষ্ট ছিলেন তারা নুতন করে শুরু করেন ষড়যন্ত্র।

তবে দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জয়েকজন মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপবেবহারের কারণে বিএনপি সরকারের মতই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারও তাদের জনপ্রিয়তা হারায়। ফলে ২০০১ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে  সরে দাঁড়াতে  হয়। বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার জৈষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দলের সামনে আসেন এবং নির্বাচনে তরুণদের সাথে নিয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। পর্যবেক্ষক মহলের মতে ২০০১ নির্বাচন ছিল একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের কার্যকলাপের কারণেই সেদিন নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল। ২০০১ নির্বাচন ছিল আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় শিক্ষা। তবে আওয়ামী লীগ তা মানতে রাজি নয়। তাদের মতে তত্কালীন তত্তাবদায়ক সরকার চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে পরাজিত করেছে। আওয়ামী লীগ এমন কিছু করেনি যার কারণে তাদের ক্ষমতা হারাতে হবে। কিন্তু পর্যবেক্ষক মহল আওয়ামী লীগের এই যুক্তি তর্ক মানতে রাজি নয়।  তাদের মতে যেমন কর্ম তেমন ফল পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

২০০১ নির্বাচনে প্রথমবারের মত বিএনপি জামায়াতের সাথে জোট বেধে সরকার গঠন করে যা জনগণ শুরু থেকেই ভালো দৃষ্টিতে দেখেনি। বিএনপির এই পদক্ষেপ দলটির  ভবিষ্যতের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়া তার উত্তরসুরী হিসেবে তারেক রহমানকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই লক্ষে দলের অনেক সিনিয়ার নেতাদের ডিঙ্গিয়ে তিনি তারেক রহমানকে বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ন মহা সচিব পদে বহাল করেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্তেও হটাত করে তারেক রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়াকে দলের অনেক সিনিয়ার নেতা ভালো চোখে দেখেননি। তবে নিজ নিজ স্বার্থে বিরোধিতা না করে চুপ করে বসে ছিলেন।

সমালোচকেরা বলেন একজন জেনারেলের স্ত্রী, পরবর্তিতে সরকার প্রধান ও বিএনপি নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া জনগনের কাছে সঠিকভাবে আসতে পারেননি। একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে তার চলা ফেরার স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের যেভাবে জনগনের কাছে আসার প্রয়োজন বেগম খালেদা জিয়া সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বের্থ হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া কখনই তার বিলাসিতা জীবন থেকে সরে আসেননি। তিনি এখন পর্যন্ত তার সেই স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন। এখানেই খালেদা জিয়ার সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার পার্থক্য । রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা ও ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়তা থাকার কারণে শেখ হাসিনা রাজনীতির চাল চলন সম্পর্কে একটি শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আগে থেকেই পেয়েছেন। যার কারণে তাকে সর্বত্র জনগনের সাথে একান্তে মিলিত হতে দেখা যায়। শেখ  হাসিনা জানেন কিভাবে জনগনের ভালবাসা পাওয়া যায়। অন্যদিকে একজন জেনারেলের স্ত্রী হওয়ার কারণে খালেদা জিয়া জনগণ থেকে দুরে থাকার শিক্ষা পেয়েছিলেন যা এখনো তার চালচলনে পরিলক্ষিত। সাধারণ জনগণ থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন ছিলেন, এখনো আছেন। শুধুমাত্র দলীয় কর্মী ও নেতাদের  কাছেই রয়েছে তার সন্মান।

বিএনপির বর্তমান দুরবস্থা যেখানে ৯১ নির্বাচনের পূর্বে হওয়ার কথা ছিল তা এখন হয়েছে ২০১৬ এসে। দলটির পক্ষে এখন আর পূর্ব অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা নেই বলেই পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। দলের কর্মী ও নেতারা এখন হতাশায় ভুখছেন। সামনে এখন আর কোনো আলো দেখতে পাচ্ছেন না। ২০০৬ থেকে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহিরে। এর মাঝে সেনাবাহিনী সমর্থিত ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের অস্থায়ী সরকারের আমলে অন্যান্য রাজনৈতক দলের মতই দলটির উপর এসেছে আঘাত। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগকে চক্রান্ত করে দীর্ঘ ২১ বত্সর ক্ষমতার বাহিরে রাখা সত্তেও দলটি কখনো দুর্বল হয়ে যায়নি। কারণ দলটির জন্ম হয়েছে রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বে। বিএনপির মত কোনো জেনারেলের  নেতৃত্বে সামরিক ছাউনি থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নয়। ২১ বত্সর ক্ষমতার বাহিরে থাকা সত্তেও একটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে থাকার কারণে আওয়ামী লীগ আজ শক্ত অবস্থানে আসতে পারলেও মাত্র ১০ বছর ক্ষমতার বাহিরে থেকে বিএনপি এখন যে অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে তাতে দলটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মত ছোটো হয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকে বলছেন দলটি আগামী নির্বাচনে আদৌ ক্ষমতায় যেতে পারবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে যে জামায়াতকে সাথে নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল সেই জামায়াতের অবস্থা এখন করুন। দলের নেতাদের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার কারণে বিচারের মাধ্যমে একে একে ফাসিতে ঝুলানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাওয়ার পূর্বে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য যে অঙ্গীকার করেছিল তা অক্ষরে অক্ষরে এখন পালন করছে। জামায়াতের এই দুর্বলতা বিএনপির ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য একটা বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। রাজনীতির এই পরিস্থিতি ও শুন্যতা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য ইতিবাচক বলে অনেকে মনে করছেন।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো এভাবে বিরোধী দল বিহীন রাজনীতি আর কতদিন চলবে? সরকার  বিএনপির মাঝা ভেঙ্গে দিয়েছেন সত্য কিন্তু তাই বলে কি অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সামনে  আসতে পারে না? অনেকে মনে করেন এই মুহূর্তে সরকার বিরোধী রাজনীতিতে খালেদা তারেকের উপর আর নির্ভর না করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম সামনে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পরেছে। বিএনপির বর্তমানে যে অবস্থা সেখান থেকে উঠে আসা তাদের পক্ষে আদৌ  আর সম্ভব হবে কি না বলা কঠিন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থান দলটিকে আর পূর্ব অবস্থানে আনতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে একথা সত্য দলের তৃণমূলে এখনো শক্তি আছে। তাই এখন প্রশ্ন আসছে সরকারকে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজন খালেদা তারেক বিহীন একটি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। বিএনপির তৃণমূলের শক্তিকে এ ব্যাপারে কাজে লাগানো যেতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করতে পারলে তারা জনগনের সমর্থন পাবে বলে পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছেন। জনগণ এখন আওয়ামী লীগের বিকল্প একটি বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিক মঞ্চে দেখতে চায়। তবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও বঙ্গবন্ধু বিরোধী নয়। বর্তমান সরকারের ভুল ভ্রান্তি তুলে ধরে একটি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক প্লাটফর্মের সক্রিয়তা ও শক্তিশালী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

দেশে এখন বিএনপি জামায়াত জোটের মতো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত না করে খালেদা তারেক বিহীন একটি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে এধরনের একটি রাজনৈতিক দল এখন অত্যাবশ্যক। বর্তমানে দেশে বিরোধী দলের কোনো ভূমিকা না থাকাতে সরকার এককভাবে যে শক্ত অবস্থানে আছে তার বিপক্ষে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের কাছে তাই এখন জনগনের প্রত্যাশা খালেদা তারেক বিহীন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একটি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল। পারবে কি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা জনগনের এই আশা আকাংখা পূরণ করতে?

লেখক: সুইডেনে মূলধারার রাজনীতির সাথে সক্রিয়

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.