পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বিমানবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। যার নাম হবে মংলায় খানজাহান আলী। প্রস্তাব অনুযায়ী বিমানবন্দরটি নির্মিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি বেসমারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হারে ফি ও চার্জ পাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মসিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিবকে একথা বলা হয়।
পত্রে বলা হয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ইন্টেলিজিয়েন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডাইনামিক্স লিমিটেড একটি স্বপ্রণোদিত প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। তিনি বিষয়টি পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
মংলা বন্দর, মংলা রপ্তানি এলাকা, মংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত গড়ে উঠার জন্য বিমানবন্দর দরকার। বিমানবন্দর ছাড়া কোনো বন্দর বা শিল্প এলাকা গড়ে ওঠা সম্ভব নয় বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।
পত্রে বলা হয়, ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডাইনামিক্স লিমিটেড পিপিপি’র ভিত্তিতে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি মালিকানায় গঠিত যৌথ উদ্যাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ওরিসিস শীর্ষক বিদেশি কোম্পানি অর্থ সংস্থান করতে ইচ্ছুক। লারসেন অ্যান্ড টারবো লিমিটেড কারিগরি বিষয়বলি ও নির্মাণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছে। ৩০ বছর তারা বিমানবন্দর পরিচালনা করবে। সরকার তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করলে তারা নিজ ব্যয়ে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করবে এবং পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেবে।
পত্রে আরো বলা হয়, প্রকল্পটি উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত আছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য অধিক পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। তাই পিপিপিতে বিমানবন্দর নির্মাণ ও পরিচালনা করলে নির্ধারিত সময়ে অর্থ সরবরাহ ও চালু করা সম্ভব হবে। প্রকল্প হতে সাশ্রয়প্রাপ্ত অর্থ সরকার অন্য প্রকল্পে বরাদ্দ করতে পারবে। এতে করে সার্বিক পর্যায়ে উন্নয়ন হবে।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে বেসমরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও পত্রে জানানো হয়।
পত্রে আরো জানানো হয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান সৈয়দ আফসার উদ্দীন পরামর্শ দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করলে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডাইনামিক্স লিমিটেডকে সম্ভাব্যতা পরীক্ষা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেয়ার জন্য অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি প্রার্থনা করা হচ্ছে। অনুমোদিত হলে প্রস্তাবটি পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।


