তন্দ্রা দেবনাথ নামের এক গর্ভবতী হিন্দু গৃহবধূকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাটা টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলে ঘটেছে। বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ এই খবর নিশ্চিত করে। মোহাম্মদ হাবিব নামের এক সন্ত্রাসী জোরপূর্বক অপরহণ করে এই হিন্দু গৃহবধূকে।
তন্দ্রা দেবী হলেন বিশ্বজিৎ দেবনাথ নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী। তন্দ্রাকে অপহরণ করা হয় এ বছরের ১১ মার্চ। সেদিন তিনি তার স্বামীর বাড়ি ধেকে বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাস্তায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন হাবিবসহ বেশ কয়েকজন মাইক্রোবাসে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তন্দ্রার বাবার বাড়ি ঘাটাইল থানা থেকে সাত মাইল দূরে আতারাডানায়।
স্ত্রীকে হারিয়ে বিশ্বজিৎ দেবনাথের পাগলপ্রায় অবস্থা। তন্দ্রা দেবনাথের বাবা রামপ্রসাদ দেবনাথ একটি এফআইআর দায়ের করেছেন ঘাটাইল থানায়। তিনি ঘাটাইল থানায় গিয়ে তার মেয়েকে অপহরণকারী হাবীবকে গ্রেপ্তারে আকুল আবেদন জানান।
তন্দ্রার মায়ের নাম হল বিউটি রানী। তিনি বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের কাছে ২ এপ্রিল ২০১৬ সাহায্য চান তার মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য। তিনি আরও জানান, তারা আমার মেয়েকে আটকিয়ে রেখে হুমকি দিচ্ছে যে, যদি ফিরে আসে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।
বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ নেতারা টাঙ্গাইল পুলিশের এএসপি’র কাছের সাহায্য চেয়েছে তন্দ্রা রানীকে উদ্ধার করার জন্য। এএসপি তন্দ্রাকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা হবে বলে আস্বস্ত করেন।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার পুলিশ অফিসার মো: কামাল হোসেনের সাথে কখা বললে তিনি মামলা সম্পর্কে তথ্য দেন, তবে তন্দ্রাকে উদ্ধারের বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। বরং পুলিশ উল্টো তন্দ্রা দেবনাথকে দোষ দিয়ে বলে, আমাদের মনে হয় তাদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, এটা হল এই দেশের মানুষের একটি সাধারণ দোষ দেওয়ার অভ্যাস। যখন কোনও সংখ্যালঘু মেয়েকে অন্য ধর্মের যুবক জোর করে তুলে নিয়ে যায় তখনই এমনটা হাজারো অজুহাত দিয়ে দোষীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। একজন গর্ভবতী মহিলার পক্ষে এমন ঘটনা চিন্তাও করা যায় না।


