বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

মন্ত্রী ও এমপির মারামারি হওয়ার উপক্রম: থামাল অন্যরা

Awamileage_Clash_ctgফ্লাইওভার নিয়ে মতবিরোধে চট্টগ্রামে এক আলোচনা সভায় বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফসারুল আমীন।

বিপক্ষে মত দিয়ে সাংসদের রোষে পড়েন এই মন্ত্রী; তার দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট সেমিনার কক্ষে ‘টেকসই জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব দৃশ্য দেখা যায়।

বিতণ্ডার জের ধরে অবশ্য শেষ পর্যন্ত ওই আলোচনা সভা আর এগোয়নি।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আয়োজনে ওই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন। শুরুতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ও নগর পরিকল্পনাবিদ আলী আশরাফ। এরপর বক্তব্য দেন স্থপতি তসলিম উদ্দিন ও জেরিনা হোসেন।

তাদের প্রায় সবাই ফ্লাইওভারের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিমত তুলে ধরেন।

এরপর মন্ত্রী মোশাররফ তার বক্তব্যে বলেন, “যখন বহদ্দারহাট, কদমতলী ও মুরাদপুর ফ্লাইওভার হচ্ছে তখন আমি মন্ত্রী থাকলে হয়তো অনুৎসাহিত করতাম। করলেও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতাম।

“কিছু ফি দিলেই চুয়েট-বুয়েট সমীক্ষা প্রতিবেদন দেয়। বহদ্দারহাট ও কদমতলী ফ্লাইওভারে তেমন গাড়ি ওঠে না। গাড়ি না উঠলে তো এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্য দেশের মত ফ্লাইওভার ভেঙে ফেলতে হবে।”

মন্ত্রীর পর বক্তব্য দিতে আসেন সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমীন।

তিনি মোশাররফ হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, “মন্ত্রী না থাকলেও তখন আপনি এমপি ছিলেন। এর দায় দায়িত্ব আপনাকে নিতে হয়।”

এসময় মন্ত্রী জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বক্তব্য চালিয়ে যান সাংসদ।

আফসারুল আমীন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেছেন। পাবলিকলি এসব কথা (ফ্লাইওভারের বিরুদ্ধে) বলা উচিত না। পূর্তমন্ত্রীর আগ্রহে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আপনার (মন্ত্রী) আগ্রহে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সুভাষ বড়ুয়াকে দিয়ে আপনি এ পেপার (প্রবন্ধ) উপস্থাপন করেছেন।”

এ সময় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন সাংসদকে বলেন, “আপনাকেও তো ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে।”

সঙ্গে সঙ্গে সাংসদ উত্তেজিত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে মন্ত্রীর দিকে তেড়ে যান।

এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে নিজের চেয়ার থেকে উঠে মন্ত্রীর দিকে তেড়ে যান সাংসদ। মন্ত্রীর উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সাংসদ বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের ছেলে। আমাকে চিনিস।’ এই সময় সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন ও অন্যরা তাঁদের নিবৃত্ত করেন। মন্ত্রী ও সাংসদের বাগ্‌বিতণ্ডার সময় তাঁদের সমর্থকেরা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।

তবে এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার বক্তব্য দেন মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন। তিনি পুরো ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে হয়ে গেছে। মনে করবেন কিছুই হয়নি।’ এরপর মন্ত্রী ও সাংসদ করমর্দন করেন।
মন্ত্রীর পর সিটি করপোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে পুরো ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই সভাটি আরেকদিন করলে ভালো হবে। তখন পরিকল্পিতভাবে করা উচিত।’

মেয়রের পর চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বক্তব্যে দিতে শুরু করলে চেয়ার থেকে উঠে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মন্ত্রী।

সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় আফছারুল আমীনের ১০ থেকে ১৫ জন সমর্থক স্লোগান দিয়ে মন্ত্রীর পথরোধ করেন। এই সময় মন্ত্রী তিন-চার মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সাংসদ আফছারুল আমীন মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। নিচে মন্ত্রীকে গাড়িতে তুলে দেন তাঁরা। এর একপর্যায়ে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন আয়োজকেরা। সভায় অতিথিদের বক্তব্য শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে মুক্ত আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

আইইবি এর চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুণ সভায় বলেন, ‘কারও ইন্ধনে বা আগ্রহে এই সভার আয়োজন করা হয়নি। আর কাউকে ভাড়া করেও আনা হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর বহদ্দারহাট উড়ালসড়ক ও চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি কদমতলী উড়ালসড়কের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন