পহেলা বৈশাখের উৎসবে সরকারের বিধিনিষেধ আরোপ মধ্যযুগীয় চিন্তার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে উৎসব করার ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিশন পুলিশের (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞা না মানারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এ ঘোষণা দেন।
পহেলা বৈশাখে নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিকাল পাঁচটার পর উন্মুক্ত স্থানে কনসার্ট, নৃত্য পরিবেশনসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান না করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়। এছাড়া বিকাল পাঁচটার পর পার্কে ঢুকতেও নিষেধ করা হয়।
পহেলা বৈশাখে বিকেল ৫টার পর উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সারাক্ষণ, সর্বক্ষণ আমাদের পহেলা বৈশাখের আচার অনুষ্ঠান উৎসব চালিয়ে যাব এবং সরকার আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য থাকবে।’
‘সংবিধানের কোথাও লেখা নেই আমরা নিরাপত্তা দিতে পারব না।’ যোগ করেন তিনি।
সুলতানা কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্রে নারীর প্রতি সুরক্ষা দেয়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে তা না করে একটি মহল যারা উৎসবে আসে তাদের দোষ ধরে সার্বজনীন পহেলা বৈশাখের যে উৎসব মনোভাব এটা গুরুত্বহীন করে দিচ্ছে।’
এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বছর পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিকাল পাঁচটার মধ্যে সকলকে ঘরে ফিরে যেতে হবে এটা মধ্যযুগীয় চিন্তার প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, ‘পোশাক-আশাকে নারীর সত্তা যাতে বিকশিত না হয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত এরই প্রতিফলন। এজন্যই নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার নিবে না।’
সুলতানা কামাল অভিযোগ করেন, এ দেশটায় যাতে কোনো ধরনের সর্বজনীন উৎসব করা না যায়, সে প্রক্রিয়া চলছে। অথচ সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা, সর্বজনীনতা রয়েছে। আসলে সব ধরনের উৎসব বন্ধ করার একটা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্র কিন্তু অঙ্গীকারবদ্ধ যে, তারা ২৪ ঘণ্টাই নারী-পুরুষের নিরাপত্তা দিবে। সাংবিধানিকভাবে বলা হয়েছে, কোনো পাবলিক প্লেসে নারী গেলে তাকে নিরাপত্তা দিবে সরকার। সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবে না এমন কথা কোথাও লেখা নেই।’
কিছু দুর্বৃত্ত ভয় দেখিয়েছে বলে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সরকার দিয়েছে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক দাবি করে উৎসব পালনের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছেন।’
অনুষ্ঠানে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির উপস্থিত ছিলেন।


