বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীজুড়ে পাঁচ স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা

bangladesh_police_9889.pngনববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে তিন থেকে ৫ স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি এবার যোগ হচ্ছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। বিশেষ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। এ বছর পহেলা বৈশাখে রাজধানীর ৭০টি অনুষ্ঠানস্থল কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করবে পুলিশ। থাকবে সেন্ট্রাল মাইকিংয়ের ব্যবস্থা।

বুধবার রমনা বটমূলে বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রীয়ভাবে মাইকিংয়ের আওতায় সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। যেখানে সন্দেহ হবে সেখানেই পুলিশ তল্লাশি চালাবে। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হবে ডগস্কোয়াড। প্রস্তুত থাকবে এলিট ফোর্স র‌্যাব, বিশেষায়িত টিম সোয়াত, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম। সংবাদ সম্মেলনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমনা বটমূলের পাশেই ডিএমপির ডগস্কোয়াড এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি মহড়া পরিদর্শন করেন। ঘুরে দেখেন র‌্যাব-পুলিশের গৃহীত নিরাপত্তা সার্বিক ব্যবস্থা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মহড়ার নেতৃত্বে থাকা বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সানোয়ার হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার ইউনিটের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেন। মন্ত্রী এ সময় বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সন্ধ্যার আগেই যাতে সবাই অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফেরেন সেজন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ এ দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। অনেক বিদেশী আনন্দে ভাগীদার হওয়ার জন্য আসেন। এজন্য নিরাপত্তার স্বার্থে একটু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পুলিশের বিধিনিষেধকে বাড়বাড়ি আখ্যা দিয়ে কিছু সংগঠনের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সম্পর্কে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অনেকেই আরও বেশি সময় ধরে আনন্দ করার প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে আমরা চেয়েছি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। একটি মহল সব সময়ই উৎসবে বিঘ্ন ঘটাতে চেষ্টা করে। তবে আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই রাজধানীর গাড়ী চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। বের এবং প্রবেশ আলাদা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বাইরেও স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে মোতায়েন থাকছে পর্যাপ্তসংখ্যক র‌্যাব-পুলিশের সদস্য। নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সবগুলো অনুষ্ঠানস্থলকে কেন্দ্রীয়ভাবে মাইকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালানো হবে। মন্ত্রী বলেন, নববর্ষের দিন নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন তার সবকিছুই করবে আইনশৃংখলা বাহিনী।

এদিকে এ বছর নববর্ষে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করলেও একটি গোয়েন্দা সংস্থা রাজধানীর যে কোনো একটি অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা নাশকতা চালাতে পারে বলে প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি নিয়মিত কার্যক্রম বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

মহানগর পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, এ বছর রাজধানীর মোট ৭০টি স্থানে নববর্ষেও অনুষ্ঠান হবে। এসব অনুষ্ঠানস্থলসহ পুরো রাজধানীতে আজ (বৃহস্পতিবার) প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর বাইরে এলিট ফোর্স র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আরও সদস্যসহ প্রায় ২৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে আইনশৃংখলা রক্ষায় বিজিবির সদস্যরা প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাবে।

আরও পড়ুন