দীর্ঘ ১৬ বছরেও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলা। দুই বছর আগে নিম্ন আদালতে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও উচ্চ আদালতে মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি।
১৪ বছর পর ২০১৪ সালে বিচারিক আদালতের দেয়া হত্যা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ও যাবজীবনপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে অপেক্ষমাণ রয়েছে। আগামী মাসে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
মামলাটি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলা শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এছাড়া এ ঘটনায় বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতে চলছে। এ মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটি ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ মামলার কার্যক্রম শেষ হবে, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে একজন মারা যান। এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওইদিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় ২০০৯ সালে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশের অপরাধ বিভাগ।
২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে ফাঁসির সাজা দেয়া হয়। ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার ও মাওলানা শফিকুর রহমান।
এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা সাব্বির, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও মাওলানা আবু তাহের। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৮ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদেরও একই অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের অতিরিক্ত এক বছর সাজা ভোগ করতে হবে।
মামলায় মোট ১৪ জন আসামির মধ্যে ৫ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন-
মুফতি আবদুল হান্নান, আরিফ হাসান সুমন, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ ও মাওলানা আকবর হোসাইন।
পলাতক আসামিরা হলেন-মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা আবু বকর, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই।


