বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

mujibnagarআজ ১৭ এপ্রিল। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালির জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে তখনকার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়।

১০ এপ্রিল গঠিত এ সরকার প্রথমেই বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে সমর্থন ও অনুমোদন করে। তখনকার পরিস্থিতি ও ঐতিহাসিক বিবেচনায় অনেকেই এ সরকারকে বিপ্লবী ও প্রবাসী সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করে।

স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আগামী দিনের প্রত্যাশিত দিকনির্দেশনা, সাংবিধানিক ও যৌক্তিক অধিকার রক্ষার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা তখন অপরিহার্য ছিল।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকচক্র নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে না চাওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা স্বাধীনতার পতাকা হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য শপথ নিয়েছিল। এ কারণেই মুজিবনগর সরকার গঠন করার প্রয়োজনীয়তা তৎকালীন বাংলার জনগণ উপলব্ধি করে।

এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহাকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি), তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৎকালীন কর্নেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।

এদিন ১০ এপ্রিল গঠিত বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় কোরআন তেলওয়াতের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও নবগঠিত সরকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও প্রধান সেনাপতি কর্নেল এমএজি ওসমানী বক্তব্য রাখেন।

ঐতিহাসিক এদিনটিতে প্রতিবছরের মতো দেশবাসীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে আজ ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশের সব জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।

এ ছাড়া মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল ১০টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল পৌনে ১০টায় গার্ড অব অনার।

সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর দিবসের জনসভা শেখ হাসিনামঞ্চে। এ জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

মেহেরপুরের মুজিবনগরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান প্রমুখ।

১৮ এপ্রিল বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন (খামারবাড়ি, ফার্মগেট) আলোচনাসভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন