বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

জাপানে ২৪ ঘণ্টায় ২৫২ ভূকম্পন: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

japan_10120ভূমিকম্পের দেশ জাপানে ২৪ ঘণ্টায় ২৫২ বার ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। জাপান মেটোরোলজিক্যাল এজেন্সি বলছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৬টা ২৬ মিনিট থেকে শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ২৫২ বার ভূমিকম্প হয়েছে, যা ১৯৯৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সর্বশেষ জাপানে শক্তিশালী কম্পনের রেশ না কাটতেই কুমামতো প্রদেশে শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। কয়েক দফা এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১-এ দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮ মাসের জীবিত শিশুকে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী কর্মীরা।

এতে ৮০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে অনেক বাড়িঘর। শুক্রবার ও শনিবার কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিধ্বস্ত ভবনের নিচে কিছু লোকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশংকা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। দেশটির উদ্ধার কর্মীরা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজে অন্তত ২০ হাজার সেনা ও উদ্ধারকারী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের চেয়ে এবারের ভূমিকম্পটি বেশি প্রবল এবং আরও বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস ঘটেছে ও রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে। একটি উপকূলীয় শহরের সিটি হল ও হাসপাতাল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একটি বৃদ্ধাশ্রমের ভেতরে অন্তত ৬০ জন আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের আঘাতে নিশিহারা গ্রামের একটি বাঁধ ভেঙে পড়েছে।

৪০০ বছরের পুরনো দুর্গে ধস : সেনাবাহিনীর আগুন এবং কামানের গোলাও যাকে ফেলতে পারেনি, ৭.৩ মাত্রার এক ঝাঁকুনিতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সেই অভেদ্য সুরক্ষাব্যূহ। শনিবার ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে গেছে জাপানের ৪০০ বছরের পুরনো ‘কুমামোতো দুর্গ’-এর একাংশ। ১৪৬৭ সালে সুরক্ষাব্যূহ হিসেবে চুয়োতু এলাকার পাহাড়ের চূড়ায় এটি প্রথম নির্মাণ করা হয়। ১৬০৭ সালে জাপানকে পুনরায় একত্রকরণের পর বিশাল প্রাচীরসহ এই পাথরের দুর্গটি নতুন করে নির্মাণ করেন লর্ড কিয়োমাসা কাতো। ১৮৭৭ সালে সামুরাইদের বিদ্রোহের পর তারা এটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং অগ্নিসংযোগ করে। কামানের গোলা এবং আগুনের ধকল সামলেও দিব্যি টিকে ছিল এটি। ১৯৬০ সালে এটিকে কংক্রিট দিয়ে পুনরায় সংস্কার করা হয়। জাপানের তিনটি সেরা দুর্গের মধ্যে এটিকে অন্যতম একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে পাথর এবং কংক্রিট থাকলেও ভেতরের সাজসজ্জায় কাঠের অলংকারই এটিকে পর্যটকদের কাছে বহুল আকাক্সিক্ষত করে তুলেছিল। সমরনায়কদের দ্বারা তৈরি হলেও নকশা এবং কারুকাজের কারণে এটি ছিল জাপানের সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক।

চোখের পলকে সেতু বিলীন! : ভয়াবহ ভূমিকম্পে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ২০০ মিটার দীর্ঘ আসো-ওহাহি সেতু। খরস্রোতা কুরকাওয়া নদীর ৮০ মিটার উপরে ১৯৭১ সালে মিনামো-আসো গ্রামে নির্মিত এ সেতুর ওপর দিয়েই কিয়েতো বিশ্ববিদ্যালয়, আসো বিশ্ববিদ্যালয় ও অগ্ন্যুৎপাতবিষয়ক একটি গবেষণাগারে যেতে হয়। স্থানীয়রা জানান, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এত বড় স্থাপনা ধসে শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা হতবাক হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় নিত্যপণ্যের দোকানে খণ্ডকালীন চাকুরে আসো গ্রামের বাসিন্দা মিয়াজুকি জানান, ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ আগেই নিজের বাড়ি আসার পথে সেতুটি পার হয়েছিলেন তিনি। মিয়াজুকির বর্ণনায়, ‘দোকান থেকে বাসায় আসার পর মনে পড়ে, গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস ফেলে এসেছি। সেটি নিতে আবারও দোকানে যাব, এমন সময়ই ভূমিকম্প হয়। কয়েক সেকেন্ডের সেই ভূমিকম্পের পর ফিরতি পথে গিয়ে দেখি সেতুটি মিলিয়ে গেছে!’ তিনি আরও বলেন, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই একটা সেতু এভাবে হারিয়ে যায়- বলতে বলতে বিস্ময় ঝরে মিয়াজুকির চোখে। এদিকে দেশটির আবহাওয়া দফতর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসো পর্বতের একটি আগ্নেয়গিরি থেকে কয়েকশ’ মিটার দূরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন