যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে মুজিবনগর দিবস। দিনটিকে ঘিরে সারাদেশে চলছে বিভিন্ন কর্মসূচি। ১৯৭১ সালে এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে শপথ নেয় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার।
সকাল সাতটায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে আরেক দফা শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।
এ সময় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর চলে যাওায়ার পর শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
পরে সাংবাদিকদের কাছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো দেশবিরোধী চক্রান্ত ব্যস্ত রয়েছে।
আজ ১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। একাত্তরের এই দিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ নেয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠন হয় মুজিবনগর সরকার।
বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ নিয়েছিলো ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার। যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তানি বিমান হামলার আশঙ্কার মুখে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব ছিলো ৪৫ মিনিট। এতে হাজারো কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত।
মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী। নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সেনা প্রধানকেও শপথ পাঠ করান তিনি।
মুজিবনগর সরকার সময়ে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
শপথের পর সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ও আনসার সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের গার্ড অব অনার জানায়।
মুজিবনগর সরকারের এই প্রকাশ্য শপথ অনুষ্ঠান ছিলো মুক্তিযুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট। পাকিস্তানি জান্তারা বিশ্বে প্রচারণা চালাচ্ছিলো বাঙালীর স্বাধীনতা যুদ্ধ হচ্ছে ভারতের মাটিতে বসে। এ প্রচারণা মিথ্যা প্রমাণেই স্বদেশের মুক্তাঞ্চলে আয়োজন হয় শপথ অনুষ্ঠানের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নানা দেশের শতাধিক সাংবাদিক।
অস্থায়ী সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টরে। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব ও দক্ষ পরিচালনায় নয় মাস মরণপণ লড়াই শেষে স্বাধীন পায় বাঙালী।


