জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ আর আন্দোলনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবশেষে বিক্রি হয়ে গেল বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি (নবাব প্যালেস)। বগুড়ার তিনজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এক একর ৫৫ শতক জমি ও স্থাপনা কিনে নিয়েছেন ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকায়।
গত রোববার বগুড়া সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদন হয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রি করেছেন অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলীর দুই পুত্র সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জেলা শহরের সূত্রাপুর মৌজার ১৭০৮ নং দাগে অবস্থিত নবাববাড়ির মোট সম্পত্তির পরিমাণ তিন একর ৭৫ শতক বা প্রায় ১০ বিঘা। এর বেশির ভাগ সম্পত্তি অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এই সম্পত্তির ওপর ক্রেতারা গড়ে তুলেছেন আল আমিন কমপ্লেক্স, টিএমএসএস মহিলা মার্কেট, শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট ও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন রানাপ্লাজা।
সর্বশেষ এক একর ৫৮ শতক জমির উপর ছিল মরহুম মোহাম্মাদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের কবরসহ নবাববাড়ি। ১৮৮৪ সালে নবাববাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সরকারি মূল্য হিসেবে স্থাপনাসহ এ বাড়ি বিক্রি হয়েছে ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকায়। এটা কিনেছেন যৌথভাবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ব্যবসায়ী শফিকুল হাসান জুয়েল ও আলহাজ্ব আব্দুল গফুর।
বগুড়া সদর উপজেলা সাব রেজিস্টার এসএম সোহেল রানা দলিল সম্পাদনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত ১৫ এপ্রিল বিক্রেতা মরহুম মোহাম্মাদ আলীর দুই পুত্র সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। দুদিন পর ১৭ এপ্রিল দলিল রেজিস্ট্রি (দলিল নং -৪৩১৮ ) সম্পন্ন হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি বা নবাব প্যালেস বিক্রির মধ্য দিয়ে বগুড়ার শত বছরের ঐতিহ্য বিলীন হয়ে গেল। প্রথমে কারুপল্লী ধ্বংস করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পর এবার নবাব প্যালেস পুরোটায় চলে গেল ব্যবসায়ীদের দখলে। অচিরেই হয়তো ঐতিহ্যবাহী এই জমিতে গড়ে উঠবে আরও অনেক বড় বিপণি বিতান।


