প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত তথ্য পেতে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় দণ্ডিতদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের কথা শফিক রেহমান স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, “শফিক রেহমান রিমান্ডে তথ্য দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত রিজভী আহমেদ সিজার, এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক এবং এই দুজনের মধ্যস্ততাকারী লাস্টিকের বন্ধু জোহানেস থালের সঙ্গে বৈঠকের কথা তিনি ‘স্বীকার করেছেন’।”
গত শনিবার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে (৮২) তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। পরে তাকে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ‘বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা নাগরিকের’ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুষ নেয়ার দায়ের এফবিআই এর সাবেক এক এজেন্টকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালত রায়ে বাংলাদেশের ওই নাগরিকের নাম পরিচয় উল্লেখ না করলেও ধারণা করা হয় তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনায় বিএনপির লোকজন জড়িত। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম এসেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
এর আগে গত রোববার জয় তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা উদ্ঘাটন করেছে। তারা এ বিষয়ে প্রমাণাদি আমাদের সরকারের কাছে দিয়েছে। তাকে এই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করতে পারছি না। কিন্তু এই প্রমাণ দ্ব্যর্থহীন এবং অখণ্ডনীয়।’


