ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক। গরু আনার উসিলায় রাখাল সেজে বাংলাদেশীরাই ভারত থেকে এগুলো আনছে। সাড়ে তিন থেকে চার হাজার বাংলাদেশী ‘রাখাল’ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। যাদের বড় অংশরই উদ্দেশ্য গরু নয়, অস্ত্র ও গোলাবারুদ আনা। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যে উদ্বিগ্ন বিজিবি। অস্ত্র পাচার ঠেকাতে সীমান্তে টহল জোরদার করেছে তারা।
দেশের অন্য এলাকার মতো রাজশাহী অঞ্চলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলছে। এসব অস্ত্র রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবহারের পাশাপাশি অন্য এলাকাতেও যাচ্ছে। তা ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে রাজশাহীতে এ অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিজিবি।
রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য এসেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সহিংসতায় যেসব অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে আসছে। এগুলো বাংলাদেশীরা রাখাল সেজে ভারত থেকে নিয়ে আসছে। আর সে জন্যই সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ভারতে রাখাল যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে আরও তথ্য আছে, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার বাংলাদেশী রাখাল ভারতে অবস্থান করছে। ইউপি নির্বাচনের পূর্বে বিপুলসংখ্যক রাখালের ভারতে অনুপ্রবেশ আমাদের আতংকিত করে তুলেছে। তাই আমরা সীমন্তে টহল জোরদার করেছি। ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছি- যাতে তারা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্য আনতে না পারে।’
জাকির হোসেন বলেন, এদের কেউ কেউ আবার মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। ফেনসিডিলের ছোট ছোট বস্তা গরু-মহিষের গায়ে বেঁধে ভারত থেকে নিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটিই শর্ত, বাংলাদেশ থেকে কোনো রাখাল ভারতে প্রবেশ করবে না।’
কর্নেল জাকির বলেন, ‘আমরা গরু বা মহিষ আসার বিপক্ষে নই। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই চাই না, কোনো বাংলাদেশী বিএসএফের গুলিতে নিহত হোক। আমরা সব সময় সীমান্তে একটি সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের নিবিড় নজরদারি, নিরলস টহল এবং বিএসএফের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কারণে সে ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। চলতি বছরের তিন মাসে নিহতের ঘটনা ঘটেছে মাত্র ২টি এবং আহত হয়েছেন দু’জন।’
বিজিবি জানিয়েছে, গত বছর ভারত থেকে সীমান্তপথে আসার সময় বিজিবি ৩১টি পিস্তল, পিস্তলের ৪২ ম্যাগাজিন, ১২২ রাউন্ড গুলি, ৮.২ কেজি গান পাউডার ও ২টি শটগান উদ্ধার করেছে। চলতি বছরের তিন মাসে ৪টি পিস্তল, দুটি শটগান এবং ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছর ভারত থেকে এসেছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫২৫টি গবাদিপশু। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আর চলতি বছরের মাত্র তিন মাসেই দুই লাখ ৭ হাজার ৪৯২টি গরু আসায় রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ২০১৫ সালে বিএসএফের গুলিতে ১২ বাংলাদেশী নিহত এবং আহত হন ১৩ জন, গ্রেফতার হয়েছিল ৬০ জন এবং অপহরণ হয়েছে তিনজন।
মতবিনিময় সভায় বিজিবি রাজশাহী সেক্টরের অধীনন্থ ১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কার্নেল মো. শাহ্জাহান সিরাজ, ৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আবুল এহসান, ১৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আলী রেজা, ৪৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান এবং ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসান মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


