সুশাসনের অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে ব্যাংকিং খাত থেকেই জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ আসতে পারে। পরিস্থিতি উত্তরণে সুশাসন নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া এবং এ খাতকে রাজনীতিমুক্ত রাখার সুপারিশ করেছেন তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এমন মতামত তুলে ধরেন।
সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অগ্রনী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের মোহাম্মদ বখতিয়ার।
ড. মির্জা আজিজ বলেন, সুশাসনের অভাব রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকে এটি ব্যাপক। ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় এতো বেশি বেড়ে যাচ্ছে যে পুরো খাত ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে। বিদেশী ব্যাংক একশ টাকা আয় করতে ৫০ টাকা ব্যয় করে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক ব্যয় করে ৮৬ টাকা। এছাড়া দৈনন্দিন লেনদেনেও অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে বৈশ্বিক মন্দা দেখা দিয়েছিল অর্থনৈতিক খাত থেকে। দেশও এমন কিছু দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে দেশে যেসব আইন আছে তা খুবই সমৃদ্ধ, তবে এর বাস্তবায়ন কম। তিনি বলেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে আইটি মেশিনের কোন দোষ নেই। যারা মেশিন নিয়ন্ত্রণ করে তারা সৎ না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। কারণ যেসব সৎ কর্মকর্তা আছেন তাদের পেছনে সরিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে এ যাবৎকালে অনিয়ামের কোন বিচারই দৃশ্যমান ছিল না। আর্থিক খাতে রাজনীতি প্রবেশ ঠিক না। বোর্ড রুমে যাতে রাজনীতি না ঢুকে সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় ড. ফরাস উদ্দিন কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়ে তাতে তিনটি বিষয় আছে কিনা এ প্রশ্ন মানুষের। সুইফটের যেসব লোক তদন্ত করতে এসেছিলেন তাদের কেন তদন্ত করতে দেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা ঘটনার পর তদন্তে কোন ভুমিকা রেখেছেন কিনা, আর ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানাকে কেন এখানে আনা হলো বিশেষজ্ঞ হিসেবে।
মূল প্রবন্ধ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ ব্যাংকিং খাতে ১১টি সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি কিছুও পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং কমিশন গঠন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্ত্বশাসন নিশ্চিত করা, বেসরকারি ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করা, জালিয়াতি বন্ধে উদ্যোগ নেয়া এবং আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য অভ্যন্তরীন অডিটের ব্যবস্থা করা, ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।


