‘তৃনমূল বিএনপি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে পরিচিত এবং যিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাও বটে, তিনি কোনো না কোনো দিন দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চই করবেন, এটা আমরা মনে প্রাণে-বিশ্বাস করি।”
শেখ হাসিনা তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ‘বাস্তবায়িত করে চলেছেন’ মন্তব্য করে তার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন হুদা।
তিনি বলেন, “সমস্ত উন্নয়ন দৃশ্যমান। আমরা বেরুলেই দেখছি, ফ্লাইওভার হচ্ছে, মেগা প্রকল্প পদ্মাসেতু হচ্ছে। বিভিন্নভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর গঠিত প্রথম স্থায়ী কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন নাজমুল হুদা। খালেদা জিয়ার দুই সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
নানা ঘটনায় আলোচিত নাজমুল হুদা ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দেওয়ার কারণে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০১০ সালের ২৩ জুন তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি তখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
ভুল স্বীকার করে খালেদা জিয়ার কাছে আবেদন করার পর ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আবার বিএনপির সদস্যপদ ফিরে পান নাজমুল হুদা। কিন্তু ২০১৪ সালের ৬ জুন সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অভিমানের কথা তুলে ধরে বিএনপি ত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
গত ২০ নভেম্বর ঢাকার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তৃণমূল বিএনপি নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর পাঁচ মাস পর আজ (২২ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নাম ঘোষণা করা হলো। নাজমুল হুদা দলটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। তৃণমূল বিএনপির প্রতীক হলো ‘ধানের ছড়া’।
ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ৩১ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে নাজমুল হুদা নিজে কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। নতুন এই কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ মইনউদ্দিন এবং মহাসচিব হিসেবে ড. এস জেড এম সালেহ উদ্দিন মনোনীত হয়েছেন।
কমিটিতে ১৮ জনকে ভাইস চেয়ারম্যান, ৪ জনকে যুগ্ম-মহাসচিব, ৫ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২২ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
এদিকে একই সময় তৃণমূল বিএনপির ৩১টি জেলায় আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করেন নাজমুল হুদা।
জেলাগুলো হলো : ঢাকা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা, নাটোর, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, ঠাকুরগাঁও ও নরসিংদী।
কমিটি ঘোষণা শেষে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে নাজমুল হুদা বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে সংলাপের প্রয়োজন হলে আপনি অবশ্যই সংলাপ করবেন। তবে যারা নির্বাচন, গণতন্ত্র ও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে না তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন- ৩১ দলীয় জোটের (বিএনএ) সঙ্গে কাজ করবে আওয়ামী লীগ। তাই আসুন, দেশের অস্থিরতা দূর করতে সংলাপে বসি। আমরা আপনাদের সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবো।’
গত বছরের ১৫ জানুয়ারি ২৫টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে আরো ৬টি দল যোগ দিলে তা ৩১ দলীয় জোটে পরিণত হয়।
সংখ্যাতত্ত্বের দিক থেকে বাংলাদেশে বর্তমানে এটিই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জোট। এর বাইরে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট এবং এনপিপির নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোট ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) রয়েছে।


