বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চাকর সাংবাদিক হতে পারলাম না

pulakঅমিয় ঘটক পুলক।

আমার এলাকার এক ছেলে ঢাকায় এক ধনী ব্যক্তির বাসায় থাকে। সুবিধায় অসুবিধায় মাঝে মধ্যেই সে আমাকে ফোন করে। সেদিন জিজ্ঞেস করলাম, কিরে, কেমন আছিস?

“দাদা মনটা খুব খারাপ,” বলেই ফ্যাঁস ফ্যাঁস করে কান্দতে লাগল।

কেন? কি হয়েছে? কেন মন খারাপ।

উত্তর: ম্যাডাম খুব কান্দতেছে। ঐ যে, আমি এখান থেকে শুনতে পারছি।

কি হয়েছে তোর ম্যাডামের?

উত্তর: পেটে ব্যাথা।

কতদিন ধরে পেটে ব্যাথা? ডাক্তার দেখায়না?

উত্তর: না না, কতদিন ধরে নয়; আজকে। বাচ্চা হবেতো… বাচ্চা মনে হয় এখন হচ্ছে; ওই যে আরও জোরে জোরে কান্দতেছে।

তোর ম্যাডামের বাচ্চা হবে, আর সেজন্য কষ্ট পাচ্ছিস তুই! বেশতো! ম্যাডাম বুঝি খুব আদর করে?

উত্তর: না না। ম্যাডামতো এখানে থাকে না। আসছে এক সপ্তাহ হল।

সেই ম্যাডামের জন্য তোর এত কান্নাকাটি!

উত্তর: না না, ম্যাডামের জন্য কান্দি না। স্যারের জন্য কান্দি। ম্যাডামের জন্য স্যার কষ্ট পাইতেছে, চোখের পানি মুছতেছে। স্যারের কিছু হইলে আমমি সেটা সহ্য করতে পাইনা।…

মনিবের অতিশয় ভক্ত ঐ বালকের মতো এডিটর ভক্ত এক সাংবাদিক আজ আমাকে ফোন করেছিল। সংলাপটা এরকম:

দাদা, আমি গাড়গাছি।

আমি: আরে গাড়গাছি ভাই, আপনি কেমন আছেন? অনেকদিন কথা হয় না!

গাড়গাছি: দেখলাম অনেক বড় এক লেখা, ফেসবুকে…

আমি: ও সব বাদ দেন। আপনি কেমন আছেন তাই বলেন।

গাড়গাছি: আমি আর কেমন থাকব। আপনি আমার এডিটরের বিরুদ্ধে লিখছেন। মন ভাল থাকে?

আমি: আমি আপনার এডিটরের বিরুদ্ধে লিখেছি নাকি?

গাড়গাছি: লেখেননি? এতবড় একটা লেখা। আপনি আমার এডিটরের বিরুদ্ধে…

আমি: তাতে আপনার কি অসুবিধা ? আপনার চাকরির কোনো সমস্যা হয়নিতো?

গাড়গাছি: আরে আমার চাকরির কি সমস্যা হবে? আপনার কথা ভাবেন। আপনি ভবিষ্যতে চাকরি পাবেন? আপনার এতবড় সাহস! আপনি আমার এডিটরের বিরুদ্ধে…

আমি: গাড়গাছি ভাই, আপনার মনে হয় এখন মাথা ঠিক নাই। এখন রাখেন। পরে এগুলো নিয়ে কথা বলা যাবে।

গাড়গাছি: তোর এত বড় সাহস, আমার এডিটরের বিরুদ্ধে লেখিস? আমার এডিটর কে সাংবাদিকতার নীতি শেখাইস, মাহফুজ আনাম তোর কি হয়? তুই নেতা হইচিস, মাহফুজ আনাম তোর মত নেতাকে এক কাপ চা ও খাওয়াবেনা? তুই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবি, কোথাও চাকরি পাবিনা…

আমি: আপনার এডিটর কি আপনার পাশে আছে? থাকলে আমাকে আর একটু গালি দেন, তাতে আপনার চাকরির যদি কোনো উপকার হয়; যদি আর একটা প্রমোশন হয়।

গাড়গাছি: কুত্তার বাচ্চা তুই রাস্তা ঘাটে চলবি না, তোর ঠেং ভাঙি দেব……

এই গাড়গাছি ভাইয়ের মত অনেক সাংবাদিককেই দেখেছি এডিটর ও মালিকের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলতে। যতক্ষণ চাকরি আছে ততক্ষণ…..। চাকরিটা চলে গেলেই এডিটর ও মালিকের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করতে শুরু করে। চাকরি গেলে ওই এডিটরের চেয়ে খারাপ আর কেউ নেই। চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার চেয়ে বিশ্বস্ত গোলাম আর নেই। আমি ওদের মত চাকর সাংবাদিক হতে পারলাম না। অনেক হাউসে কাজ করেছি, সহকর্মীদের প্রয়োজনে মালিক/সম্পাদকের সাথে বাহাস করেছি। বাড়তি আনুগত্য দেখাইনি।

আর একটা ছোট কাহিনী দিয়ে শেষ করব।

এক রাতে আমাদের গ্রামে সালিশ শেষে মেম্বার সাব একটা ঝোপের কাছে ঘেষে হিসু করছিল। সেটা ছিল চুতরা পাতার ঝোপ। হিসু শেষ হতে না হতেই মেম্বার সাব তার ট্যান্ডলকে ডেকে বলে, “রহিম এত জ্বলে কেনরে! রহিম আর সহ্য হয়না, আগুন জ্বলতেছে, আঃহাঃহাঃ…. রহিম ফুঃ দে, রহিম ফু: দে।”

প্রভু ভক্ত রহিম তখন মেম্বার সাবের লুঙ্গি তুলে ধরে ফু দেয়া শুরু করল। ফু দেয়, আর ফু দেয়।

প্রিয় গাড়গাছি ভাই, আমার লেখা যদি আপনার এডিটরকে চুতরা পাতার অনুভূতি দেয়, তাহলে আপনি তার লুঙ্গি তুলে ফু দিয়ে তাকে শান্ত করতে পারেন। চুতরার বনে শাসাইতে এলে কোনও লাভ হবেনা। এডিটরের স্ত্রীর প্রসব বেদনায় আপনি কাতর হলে আপনার চোখের জল মোছার জন্য আমার রুমাল নষ্ট করতে পারবোনা।

আপনার উত্তরোত্তর পদন্নোতি কামনা করি।

অমিয় ঘটক পুলক: সাংবাদিক এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

আরও পড়ুন