বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

তরুণ-তরুণীর লাশ নিয়ে রহস্য, মৃত্যুর আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস

mizan statusরাজশাহীতে একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা তরুণ-তরুণীর লাশ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাদের হত্যা করা হয়েছে এ নিয়ে পুলিশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেছে। এর মধ্যে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে নিহত ‍মিজানুরের ফেসবুক স্ট্যাটাস। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি জানান তিনি। এ সময় সবার কাছে ক্ষমাও চান মিজান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ইতিহাসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের ওই স্ট্যাটাসে ঘটনাটি এখন ভিন্নদিকে মোড় নিয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে পুলিশের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে এসব সাজিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এর আগে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় রাজশাহীর সাহেব বাজারের নাইস ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের একই কক্ষ থেকে মিজানুর রহমান (২৩) এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া ইয়াসমিনের (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি হত্যা।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদৎ হোসেন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত দুইজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। দেখে মনে হচ্ছে হত্যা। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি বলেন, হোটেলের ৩ নম্বর কক্ষ থেকে মিজান ও সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মিজানের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় ছিল। সুরাইয়ার লাশ পড়ে ছিল বিছানায়।

লাশ উদ্ধার হওয়ার প্রায় ১০ ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মিজানুর। ওই স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, ‘আমার থাকার ম্যাচে কিছু খাবার টাকা পাইতে পারে, উনু খাঁ শিশিরদের দোকানে ২৫ টাকা পাবে, কালিকাপুরের আরিফ বন্ধু ১শ’ টাকা পাবে সিম না বলে নিছিলাম তার জন্য। টাকাগুলো যেন বাসা থেকে প্রদান করে। এছাড়া আমার পাওনা নেই। সবাই আমাকে মাফ করবেন, আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’

মিজানুরের স্ট্যাটাসের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন জানান, মিজানুর মৃত্যুর আগে ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনা অনেক কিছুই হতে পারে। এমনও হতে পারে ঘটনাটি কেউ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তার ফেসবুক ব্যবহার করে অন্য কেউ এ কাজ করতে পারে।

নিহত মিজানুর রহমান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দবিরগঞ্জের পাঠানপাড়া এলাকার অসেদ আলীর ছেলে। তবে নিহত সুমাইয়ার পরিবার বগুড়ার উপশহর এলাকায় থাকে। তার বাবা আব্দুল করিম গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক। সুমাইয়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন