বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ভোট গণনা নিয়ে বিরোধ, পাবনায় গুলিতে নিহত ১

Vote-gononaপাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গুলিতে ইমদাদুল হক (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে আসলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বিজিবির ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, ভোট গণনা শেষে একজন সদস্য প্রার্থী পুনরায় ভোট গণনার দাবি তুলেছিলেন। এ নিয়েই দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের ঝামেলা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাহী হাকিমের নির্দেশে ১১টি গুলি ছোড়েন।

তবে বিজিবির গুলিতেই এমদাদুল মারা গেছেন কি না- তা নিশ্চিত করতে পারেননি পুলিশ সুপার।

সংঘর্ষের সময় বিজিবি ছাড়া আর কেউ গুলি চালায় কি না- তাও জানাতে পারেননি তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোট গণনা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে বিজিবি ও আনসার সদস্যরা।

এ সময় বিজিবিকে লক্ষ করে উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে বিজিবি সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে এমদাদুল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলিতে আরও অন্তত ১০ জন আহত হন বলে জানান তারা।

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চাটমোহরের মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছিল। গণনা শেষ হওয়ার আগেই সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে একদল যুবক কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের একটি গাড়িবহর নিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিজিবি সদস্যরা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিয়ে উপস্থিত লোকজনকে কেন্দ্র থেকে সরে যেতে বলেন। এতে লোকজন উত্তেজিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা শুরু করেন।

এর মধ্যেই স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে গ্রামবাসীর ওপর হামলা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এতে গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করে। তখন ইটের আঘাতে একজন বিজিবি সদস্য আহত হন। শুরু হয় সংঘর্ষ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন ইমদাদুল হক। আহত হয় অন্তত ১০ জন। ইমদাদুলকে উদ্ধার করে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ইমদাদুলের পিঠে গুলি লেগেছে।
গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইমদাদুল হক পেশায় তালা মেরামত করতেন। তাঁর বাড়ি ভোটকেন্দ্রটির পাশেই। ঘটনার সময় তিনি উৎসুক জনতার সঙ্গে পরিস্থিতি দেখছিলেন। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, আহত কেউ হাসপাতালে যেতে সাহস করছে না। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন