রাজশাহীতে আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা তরুণ-তরুণীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তরুণীর বাবা বাদী হয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরের বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম বাদশা বলেন, রাজশাহী নগরের আবাসিক হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা তরুণ-তরুণীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় তরুণী সুমাইয়া নাসরিনের বাবা আবদুল করিম এবং তরুণ মিজানুর রহমানের মামা সারোয়ার হোসেন ও নানা বেলাল হোসেন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
লাশ হস্তান্তরের সময় সুমাইয়ার বাবা কোনো কথা বলেননি। সুমাইয়ার বোন নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আপনারা বুঝতে পারছেন আমাদের কথা বলার মতো অবস্থা নেই।’ লাশ কোথায় দাফন হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিক গোরস্তানে।
মিজানুরের মামা বলেন, মিজানুরের লাশ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পাঠানপাড়া দবিরগঞ্জে দাফন করা হবে।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সেলিম বাদশা বলেন, গতকাল শুক্রবার রাতেই এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা আবদুল করিম বাদী হয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি তিনি। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের যে চার কর্মচারীকে আটক করা হয়েছিল, তাঁদের গতকাল রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তরুণীটিকে খুন করা হয়েছে, এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত ছিল। তবে তরুণটি খুন হয়েছেন, নাকি আত্মহত্যা করেছেন, এটা তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।
গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার এলাকায় অবস্থিত নাইস ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন মিজানুর ও সুমাইয়া। গতকাল শুক্রবার ভোর পাঁচটায় তাদের হোটেল ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল দুপুরে চেক আউটের সময় ফোন করলে তারা ফোন ধরেননি। হোটেলের কর্মচারী দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লক ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা দেখে, মিজানুরের লাশ হাত বাঁধা অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। আর সুমাইয়ার লাশ বিছানায় পড়ে ছিল।
মিজানুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আর সুমাইয়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।


