বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সবাই এখন কাটার মারতে চায়: মুস্তাফিজের বিশেষ সাক্ষাৎকার

mustafiz-fammবাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ছাপিয়ে তিনি এখন সারা বিশ্বের ‘ফিজ’। কখনো ১৪০ কিলোমিটার গতির ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেলকে মাটিতে শুইয়ে ফেলেন, আবার সম্মোহনী কাটার-স্লোয়ারে বিভ্রান্ত করেন এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো শীর্ষ ব্যাটসম্যানকেও। হায়দরাবাদ থেকে টেলিফোনে মুস্তাফিজুর রহমান চমকে দিয়েছেন ক্রীড়া সম্পাদক সাইদুজ্জামানকে।

প্রশ্ন : মুস্তাফিজ, এখন আপনি কোন শহরে?

মুস্তাফিজুর রহমান : হায়দরাবাদে আছি। তবে কোন শহরে জানি না ভাই (শহরটার নামই যে হায়দরাবাদ, কাটার মাস্টারকে সেটা বোধ হয় কেউ বুঝিয়ে বলেনি)।

প্রশ্ন : এত দিন চারপাশে সব চেনা মানুষ ছিল। এখন চারপাশে অচেনা সব মানুষ। কেমন লাগছে?

মুস্তাফিজ : আমার তো ভালোই লাগছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

প্রশ্ন : এত দিন দেশের মানুষ প্রশংসা করত।

এখন সারা বিশ্ব মেতে মুস্তাফিজে। তাতে এখন কি আরো বেশি ভালো লাগছে?

মুস্তাফিজ : ভাই, আমার তো সবই ভালো লাগে।

প্রশ্ন : ভালো লাগারও তো রকমফের আছে। সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা, এরপর মাত্র এক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটিয়েই আইপিএলের মতো বিদেশি লিগে। রোমাঞ্চ বা অস্বস্তি…

মুস্তাফিজ : অতশত বুঝি না। আমার কাজ খেলা। খেলে যাচ্ছি। আর এটা ঠিক যে একই দলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আছে। এ ব্যাপারটা খুব ভালো লাগছে। বিশ্বের অনেক দেশের ক্রিকেটারের সঙ্গে একই দলে খেলতে পারার ব্যাপারটা খুব ভালো লাগছে। বিভিন্ন দেশের মানুষকে কাছ থেকে দেখা, খেলা নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা থেকেও অনেক কিছু শিখছি। এটা খুব ভালো লাগছে।

প্রশ্ন : আপনার চেয়ে তো মনে হচ্ছে ওই বিদেশিদেরই আপনাকে পেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে! কোচ টম মুডি প্রায় প্রতিদিনই আপনার সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট দিচ্ছেন, অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার বাংলা শিখতে চাচ্ছেন। দল থেকেও আপনার জন্য দোভাষী রাখা হয়েছে। আপনার তো ব্যাপারস্যাপারই অন্য রকম!

মুস্তাফিজ : (হাসি) সবই আল্লাহর ইচ্ছা। সবার এ ব্যাপারগুলো দেখে বুঝতে পারি আমি হয়তো ভালোই করছি। এটা ভেবে ভালোই লাগে। আমিও দলের সবার সঙ্গে খুব মজা করি।

প্রশ্ন : কী ধরনের মজা করেন?

মুস্তাফিজ : এই তো…ড্রেসিংরুমে কিংবা টিম বাসে খেলাচ্ছলে মজা করি আর কি।

প্রশ্ন : বিশেষ কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে? শুনলাম নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট এখন আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

মুস্তাফিজ : দলের সবাই-ই আমার বন্ধু। বিশেষ কেউ নেই। এই দলের সবাই খুব হেল্পফুল। সবার সমর্থন পাচ্ছি। তাই বন্ধুও সবাই-ই।

প্রশ্ন : আপনার বোলিং কেউ নকল করছে না?

মুস্তাফিজ : এখন তো সবাই কাটার মারতে চায় (হাসি)! স্লোয়ার বেশি বেশি দিচ্ছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তো সবাইকে সব কিছু দেন না। আমিও তো ব্যাটিং সে রকম পারি না।

প্রশ্ন : আপনার দলে তো আরো পেসার আছেন। নেটে কিংবা আড্ডার সময় কেউ টিপস চান না?

মুস্তাফিজ : ওভাবে কেউ বলেনি। তবে বুঝতে পারি নেটে কিংবা ম্যাচে বোলিংয়ের সময় সবাই আমার গ্রিপটা খেয়াল করে। আমারটা হয়ে যায়। কোনো একদিন হয়তো অন্য কারোরও হবে। তবে বোলিং নিয়ে খুব বেশি কথা হয় না।

প্রশ্ন : শুনেছি আপনি বাংলাদেশের নেটেও কাটার-স্লোয়ার করেন না, ব্যাটসম্যান রহস্য ভেদ করে ফেলবে ভেবে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলারদেরও কি একই কারণে টিপস দিচ্ছেন না?

মুস্তাফিজ : আমি জানি না ভাই। আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন : সময় কাটে কিভাবে?

মুস্তাফিজ : আমার সময় কেটে যাচ্ছে। আমি সব জায়গায় সব সময় ভালো থাকি। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

প্রশ্ন : খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে কি?

মুস্তাফিজ : একদমই না।

প্রশ্ন : হায়দরাবাদের বিরিয়ানি তো জগদ্বিখ্যাত…

মুস্তাফিজ : এটা ঠিক বলছেন। খুব মজা। এরই মধ্যে দুই-তিনবার খেয়েছি।

প্রশ্ন : পরের ম্যাচ কার সঙ্গে?

মুস্তাফিজ : তা-ও জানি না। মনে হয় ধোনির টিমের (রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস) সঙ্গে।

প্রশ্ন : কোন বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লাগছে?

মুস্তাফিজ : ওই যে অনেক দেশের ক্রিকেটার একসঙ্গে আছি, ওই ব্যাপারটাই আইপিএলে আমার সবচেয়ে ভালো লাগছে। আমার জন্য ব্যাপারটা ভালোও হয়েছে। নতুন অনেক কিছু শিখতে পারছি।

প্রশ্ন : দেশের সব মানুষই আইপিএল দেখে। আপনার একেকটা কাটারে বাংলাদেশের সুনামের মিটার বাড়ছে। বুঝতে পারেন?

মুস্তাফিজ : আমি আসলে অত বড় করে ভাবিনি। আমার চিন্তা থাকে যত বেশি ভালো খেলা যায়। আমি যদি ভালো খেলি, তাহলে দেশেরও সুনাম হবে। সব সময় এভাবে ভেবেই খেলি। নিজে ভালো কিছু করলে দেশের সুনাম বাড়ে জানলে যে কারোরই ভালো লাগবে। আমারও লাগে।

প্রশ্ন : সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা হয়?

মুস্তাফিজ : ভাই (সাকিব আল হাসান) মাঝে এসেছিলেন (হায়দরাবাদে)। দুই দিন একই হোটেলে ছিলাম। মাঝেমধ্যে ফোনেও কথা হয়।

প্রশ্ন : অন্যদের সঙ্গে?

মুস্তাফিজ : মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে ভারতে আসার আগে কথা হয়েছিল। পরে একবার ফোনেও কথা হয়েছে। সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ) খবর নেন সব সময়। এই তো!

প্রশ্ন : হায়দরাবাদের কোচ-ক্যাপ্টেন দুজনই অস্ট্রেলিয়ার, দুজনই আপনার নৈপুণ্যে উচ্ছ্বসিত। তাঁদের পক্ষ থেকে কি বিগ ব্যাশে খেলার আমন্ত্রণ পেয়ে গেছেন?

মুস্তাফিজ : আগে এটা (আইপিএল) শেষ করে নিই ভাই। সুস্থ তো থাকা লাগবে। এরপর কোথায় খেলব, তা নিয়ে ভাবা যাবে।

প্রশ্ন : তাহলে কি পুরনো ওই ব্যথাটা এখনো আছে?

মুস্তাফিজ : না। এমনি ভালো আছি। কাঁধে কিংবা সাইড স্ট্রেইন নেই।

প্রশ্ন : দেশের সবাই তো অজ্ঞান, হাঁ করে আইপিএলে আপনার বোলিং দেখছে!

মুস্তাফিজ : সবই ওপরঅলার ইচ্ছা। আমি শুধু আমার কাজটাই করতে পারি। বাকিটা উনার (সৃষ্টিকর্তা) হাতে।

প্রশ্ন : সবার এ প্রশংসা পেয়ে কি নিজের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে?

মুস্তাফিজ : দায়িত্ব কী? আমি তো আমারটা চেষ্টা করি-ই। আমার যেটুকু সামর্থ্য সেটুকুই দিতে পারব। আমার চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই।

প্রশ্ন : আইপিএল কোথায় থেকে শেষ করতে চান? সর্বোচ্চ উইকেট কিংবা এমন কোনো টার্গেট আছে?

মুস্তাফিজ : ভাই, শেষ তো অনেক দূরের কথা, আমি তো জানিই না যে পরের ম্যাচটায় আমাকে হায়দরাবাদ খেলাবে কি না!

প্রশ্ন : বলেন কি!

মুস্তাফিজ : জি ভাই, ক্রিকেটটা আমি এভাবেই খেলি। পরের ম্যাচের গ্যারান্টি নিয়ে বসে থাকি না।

প্রশ্ন : আইপিএলে তো নাকি খুব পার্টিবাজি হয়। সেসবে থাকা হয়?

মুস্তাফিজ : আমি ওই সবের ভক্ত না। আর ওই সবে না গেলে ফাইন-টাইনও করে না (হাসি)! তাই খেলা, প্র্যাকটিস আর জিম-পুল সেশন ছাড়া রুম থেকেই বের হই না। তাই জানি না পার্টি কেমন হয়।

প্রশ্ন : আইপিএলে তো বলিউডের যোগাযোগও আছে। নায়িকা-মডেলদের ঘোরাঘুরি আছে আইপিএল দলগুলোর চারপাশে। তো…

মুস্তাফিজ : (হাসি) বুঝতে পারছি ভাই, আর বলা লাগবে না। আমার পুল সেশন আছে। গেলাম!

আরও পড়ুন