বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

জুলহাজকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদলেন বার্নিকাট

US-Bernicat-Mannanজুলহাজ মান্নানের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলার সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। তিনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কথা বলেন।

সচিবালয়ে আজ বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে বার্নিকাট এভাবেই কথা বলছিলেন।

জুলহাজ মান্নানের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ পর্যায়ে কিছু সময় তিনি কথা বলা বন্ধ করেন। আবার কথা বলা শুরু করলে

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জুলহাজই আপনাদের সংস্কৃতির সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি জানান কীভাবে আপনাদের সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এখানে মার্কিন দূতাবাসে কাজ শুরুর জন্য তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন।’

মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান বন্ধুবৎসল ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে তাঁর বাসায় উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন বলে জানান বার্নিকাট। তিনি বলেন, ‘তিনি (জুলহাজ) কর্মীদের ভালোবাসতেন। তিনি একজন উৎফুল্ল সহকর্মী ছিলেন। আর যতটা জেনেছি, তাতে বোঝা যায় তিনি বড় পরিসরে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ কাজ করতেন। তিনি আমার অফিস থেকে গিয়েও কাজ করতেন। তিনি ইউএসএআইডির স্বপ্নপূরণে কাজ করতেন। গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে কাজ করতেন। তিনি মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করতেন। তিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করতেন।’

বার্নিকাট বলেন, ‘গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (জন কেরি) আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাস (ঢাকা) পরিবার ও জুলহাজের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার কথা বলেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বার্নিকাট বলেন, ‘জুলহাজের হত্যাকাণ্ডসহ যেসব হত্যাকাণ্ড এ দেশে ঘটেছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। জুলহাজ আমাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ইউএসএআইডির (ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট) সঙ্গে কাজ করছিলেন। জুলহাজের হত্যাকাণ্ডের মতো যেসব হত্যার ঘটনা ঘটছে, আমি তাঁকে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সেগুলোর একটি তালিকা দিয়েছি। এই ঘটনাগুলোর তদন্ত বিষয়ে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশে এখন অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন মত প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করা হবে, নিরাপত্তা থাকবে না-এটা কী ধরনের সংস্কৃতি। বাংলাদেশ আমাদের শক্তিশালী অংশীদার। হত্যা-সন্ত্রাসের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র’ যোগ করেন বার্নিকাট।

তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পদ্ধতি কী হবে-জানতে চাইলে বার্নিকাট বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য-উপাত্ত আছে, সেগুলো আমরা বাংলাদেশকে দেব। তদন্তে একসঙ্গে কাজ করব। আমাদের যে অভিজ্ঞতা আছে সেগুলো শেয়ার করব।’

বাংলাদেশের এক দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন-এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে বার্নিকাট বলেন, ‘আমাদের সরকার এই হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয় না। তদন্তে শিগগিরই রহস্য উদ্ঘাটন হবে। আর অপরাধীও আইনের আওতায় আসবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন