বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

বিচারপতি মানিকের কাছে থাকা ১৬১ মামলার পুনঃশুনানি হচ্ছে


NEWSWORLDBD.COM - April 28, 2016

justice_manik_11256_1461785979অবসরের পর বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে রায় লেখার অপেক্ষায় থাকা ১৬১ মামলার পুনঃশুনানি হচ্ছে। আগামী রোববার আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় এসব মামলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। বেশিরভাগ মামলার রায় লেখার কাজ শেষ করেছিলেন বিচারপতি মানিক। কিন্তু তার লেখা রায় গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় প্রধান বিচারপতি মামলাগুলো পুনঃশুনানির নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরপরই প্রস্তুত করা হয়েছে এসব মামলার পেপারবুক। সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান বুধবার বলেন, ‘২৬ এপ্রিল এসব মামলার পুনঃশুনানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তবে কবে নাগাদ মামলাগুলো কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা তিনি নিশ্চিত করেননি। তবে আপিল বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের অবকাশের পর আগামী রোববার থেকে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম চলবে। ওই দিনের দৈনন্দিন কার্যতালিকাতেই মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। আজ বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকেই এসব মামলা আপিল বিভাগের ওয়েবসাইটের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় দেখা যাবে বলে ওই সূত্র জানায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৬১টি মামলার মধ্যে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালতের কার্যতালিকায় ১০০টি এবং বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন দুই নম্বর আদালতের কার্যতালিকায় বাকি ৬১টি মামলা পুনঃশুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২০১৫ সালের এক অক্টোবর আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। অবসরে যাওয়ার সময় ১৬১টি মামলার রায় লেখার দায়িত্ব ছিল এই বিচারপতির। এসব মামলা তার অবসরে যাওয়ার আগেই আপিল বিভাগ বিভিন্ন সময়ে শুনানি গ্রহণ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত আদেশও জানিয়ে দেন। শুধু পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ বাকি ছিল। মামলাগুলোর রায় দীর্ঘদিনেও তিনি না লিখে কালক্ষেপণ করছিলেন। আর এমনই এক পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গত ১৭ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে অবসরের পরে রায় লেখাকে সংবিধানপরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। ওই বাণীতে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন সময় ধরে রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধানপরিপন্থী।’

অবসরের পর রায় লেখা বেআইনি বলার ব্যাখ্যায় বিচারপতি সিনহা তার বাণীতে বলেন, ‘কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন বিধায় তার গৃহীত শপথও বহাল থাকে না। এরপর গত ২২ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার পর আর কোনো রায় লিখতে দেয়া হবে না। আমাদের দেশে অতীতে এ রকম রায় দিলেও এখন থেকে আর এ সুযোগ দেয়া যাবে না।’

এরপর তীব্র সমালোচনার মুখে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৬৫টি মামলার রায় ও আদেশের কপি হাতে লিখে জমা দেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি আরও কিছু রায় লিখে জমা দেন। বিচারপতি মানিক তার কাছে আর কোনো মামলায় রায় লেখার কাজ বাকি নেই বলে তখন মিডিয়ার কাছে দাবি করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আরও কিছু মামলার রায় লেখার অপেক্ষায় ছিল। আর যেসব রায় তিনি হাতে লিখে জমা দিয়েছেন, সেগুলোর অনেক লেখাই অস্পষ্ট। পাশাপাশি আপিল বিভাগের যে বেঞ্চ হতে এসব মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে, সেই বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা এখনও এসব রায়ে স্বাক্ষর করেননি।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো মামলার রায় লেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি রায়টি লেখার কাজ শেষ করার পর অন্য বিচারপতিরা তা দেখে একমত হয়ে স্বাক্ষর করেন। আর বেঞ্চের সব বিচারপতির স্বাক্ষর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটি রায় হিসেবেও গণ্য হয় না। যেসব মামলা পুনঃশুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এগুলোর মধ্যে ২০১৩ সালে রায় ঘোষণা করা হয়েছে এমন মামলাও রয়েছে। এছাড়াও অবসরের পরে লেখা রায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এখন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি সবগুলো মামলারই পুনঃশুনানির আদেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এসব মামলায় রায় ঘোষণার পর আবারও পুনঃশুনানির উদ্যোগ নেয়ায় বিচারপ্রার্থীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হবে। সময় ও অর্থের অপচয় হবে। তারপরও রায়গুলো আইনসিদ্ধ করতে ও বিতর্ক এড়াতে প্রধান বিচারপতি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘গা বাঁচানোর জন্য কেউ দায়সারা রায় লিখে থাকলে তা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। তবে একজন বিচারপতির গাফিলতির কারণে যদি রায় লেখা না হয় বা পুনঃশুনানি করতে হয় তার দুর্ভোগ কেন বিচারপ্রার্থীদের পোহাতে হবে? তাছাড়া পুনঃশুনানিতে তো একই রায় নাও হতে পারে। এটাকে আমি বিচার বিভাগের একটি অরাজকতা হিসেবে দেখি।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদ বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রধান বিচারপতি মামলাগুলো পুনঃশুনানিতে দিয়ে সঠিক কাজটিই করেছেন। কারণ অবসরের পরে রায় লেখার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি বিচারপতি মানিক তাড়াহুড়ো করে যে রায় লিখেছেন তাতে ভুল হওয়ার আশংকা রয়েছে। বিষয়টি হয়তো বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা মানছেন না। সে কারণে প্রধান বিচারপতি পুনঃশুনানিতে পাঠিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে বিতর্ক এড়ানোর পাশাপাশি মামলাগুলোর রায় আইনগতভাবে বৈধতা পাবে।

পুনঃশুনানির কারণে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি তো হচ্ছেই। কিন্তু এই ১৬১টি মামলার ক্ষেত্রে যে হয়রানি হল, এটার দায়ভার বিচারপতি মানিক ও আমাদের সিস্টেমের ওপর পড়বে।’

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.