বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার রূপবান পত্রিকার সম্পাদক জুলহাজ মান্নানসহ দুজনকে খুন করা হলো ঘরে ঢুকে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করীম সিদ্দিকী খুন হন বাড়ির কাছেই রাস্তায়। দুটি হত্যার পরই জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে হত্যার দায়িত্ব স্বীকার করা হয়েছে। ধর্মীয় সমালোচনা করে লেখালেখির জন্য ধারাবাহিক ব্লগার হত্যার পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং প্রশিক্ষিত জঙ্গিবাদী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। টেলিফোনে মাঝে মাঝে বলা হয় প্রস্তুত থাকুন আর বেশি দেরি নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত চারজন অধ্যাপক খুন হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়া অধ্যাপক এবং কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বিবিসিকে বলেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনিও নানাভাবে হুমকি পেয়েছেন এবং এখনো পাচ্ছেন। তিনি বলেন, টেলিফোনে মাঝে মাঝে বলা হয় প্রস্তুত থাকুন আর বেশি দেরি নেই।
এখনকার অবস্থাকে অসহনীয় হিসেবে উল্লেখ করে হক বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা কার কাছে যাব? রাষ্ট্রের কাছেই যাব। কারণ এটি রাষ্ট্রের কর্তব্য যেন মানুষের জীবনটা নিষ্কণ্টক হয়। সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অপরাধ করে খুব দ্রুত সরে পড়ার সুযোগ আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রশ্নে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন তিনি।
বহু আগে থেকে সবাই জানে যে এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার আশপাশে তারা তাদের অস্তিত্বকে জানান দেবার মতো নানান ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তার কোথাও পারিবারিক ভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অনেক দিন অনেকে বসবাস করছে। একসময় দিনের পর দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো দখলে থেকেছে ছাত্রশিবিরের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্র তাদের হাতে জখম হয়েছে, মারা গেছে পঙ্গু হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন বন্ধ থেকেছে। মলয় ভৌমিক বলেন, সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে অপরাধ করে খুব দ্রুত সরে পড়ারও সুযোগ এখানে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক আব্দুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যা হচ্ছে সেটি নয়। চারজন শিক্ষক খুন হওয়ায় এটি সবার নজরে এসেছে। তার মতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুর্বৃত্তদের উৎসাহিত করছে।
সিদ্দিকী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান আছে তাদের আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া দরকার। তারা যেন আচম্বিতে একটা মন্তব্য না করে ঘটনাপ্রবাহকে ঘুরিয়ে না দেওয়ার কিংবা ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার বা মানুষের মধ্যে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা না করে। খবর বিবিসি বাংলার।


