যৌন হয়রানির অভিযোগে বেসরকারি আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রশীদ ফেরদৌসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এ এম এম সফিউল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
উপাচার্য সফিউল্লাহ বলেন, আজ শনিবার দুপুরে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যৌন হয়রানি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থায়ী কমিটি আছে। এখন ওই কমিটি তদন্ত করে যা পাবে, তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুর রশীদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে আজ সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির তেজগাঁও ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওই বিভাগের ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আরেক ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু ওই শিক্ষক সেই ছাত্রীকে চাপ দিয়ে মিথ্যা বিবৃতি আদায় করেন। এ জন্য তাঁরা ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শনিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী জড়ো হতে শুরু করে। এ আন্দোলনে রাজধানীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে উপাচার্যের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠক শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার খবর জানানো হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চারদফা দাবিগুলো হলো: অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে। বিদ্যমান আইনানুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। এবং অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরে উপাচার্য ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


