টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দরজি নিখিল জোয়ার্দ্দারকে (৫৯) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার রাতে নিহত নিখিলের স্ত্রী আরতি জোয়ার্দ্দার বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নিহতের স্ত্রী শনিবার রাতে অজ্ঞাত ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার বেলা সাড়ে দুপুর ১২টার দিকে নিখিল চন্দ্র ডুবাইল বাজারস্থ নিজ বাড়ির সামনে তার টেইলার্সে কাজ করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে তিনজন যুবক এসে নিখিলকে দোকান থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। মাথা ও গলায় কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা সুতী কালিবাড়ী সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় তারা ঘটনাস্থলে একটি ব্যাগ ফেলে যায়। ব্যাগটিতে কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু ছিল।
নিখিল ওই গ্রামের নলিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে। মহানবীকে (সা.) কটূক্তি করার অভিযোগে ২০১২ সালে দায়ের একটি মামলার আসামি ছিলেন তিনি। ওই মামলায় নিখিল তিন মাস কারাগারে ছিলেন।
মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে নিখিলকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছিল এলাকাবাসী।
ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট থেকে শুরু করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সমকামী অধিকারকর্মীদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেভাবেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। গত এক বছর ধরে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে বেশ কয়েকবারই হামলাকারীদের মোটরসাইকেলে আসতে এবং চাপাতি দিয়ে খুন করে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশে এসব হত্যাকাণ্ডের পর আল কায়দা ও আইএসের নামে যেসব বার্তা এসেছিল, তার কয়েকটিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘটনায়ও দায় স্বীকার করতে দেখা গেছে। তবে আইএস ও আল কায়দার দায় স্বীকারের এসব বার্তা উড়িয়ে দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, দেশীয় জঙ্গিরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর নাম দিয়ে ইন্টারনেটে বার্তা ছাড়ছে।


