বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক দলের সমাবেশে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

shromik-dol-attackedমঞ্চের কাছাকাছি বসা নিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল ৩টার দিকে মঞ্চের পূর্ব পাশে ঘটা এই ঘটনায় ঢাকা মহানগর (উত্তর) শ্রমিকদল শাখার এক কর্মী আহত হয়েছেন।

বেলা ১২টার পর থেকে শ্রমিকদলের সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসেন তারা।

এ সময় মঞ্চের পূর্ব দিকে বসতে চান সংগঠনটির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। মঞ্চ থেকে বিএনপির নেতারা মাইকে পরিস্থিতি শান্ত করতে বারবার আহ্বান জানান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে আসার উদ্দেশে গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেন। সমাবেশে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।

সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গণতন্ত্রহীনতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাষণ দেবেন।

দুপুর দেড়টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশ শুরু হয়। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ নেসারুল হক পবিত্র কোরাআন থেকে তেলওয়াত করেন।

মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

এই সমাবেশকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। সন্ধ্যার আগেই সমাবেশ শেষ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেছেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য তারা যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সমাবেশ স্থলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।

রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাদা পোশাকেও সমাবেশস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। এরপরেও কেউ যদি কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তা হলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকেও সমাবেশকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাবের পৃথক কয়েকটি টিম মাঠে আছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

আরও পড়ুন