নীলফামারীর ডিমলায় তানজিনা বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর পুকুরে তার লাশ ফেলে পালিয়েছে স্বামী সামিনুর রহমান (৩৫)। তানজিনার পরিবারের এমন অভিযোগে সোমবার দুপুরে ওই পুকুর থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামে।
প্রতিবেশীরা জানায়, গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে সামিনুর রহমান সিলেটে পাথর শ্রমিকের কাজ করেন। সেখান থেকে ১৫ দিন আগে বাড়ি ফিরে আসেন। তার স্ত্রী তানজিনা বেগম এলাকায় তিস্তা নদীর পাড়ে পাথর শ্রমিকের কাজ করেন। রোববার সামিনুর রহমান কাজের জন্য পুনরায় সিলেট যেতে চাইলে স্ত্রী তানজিনা তাতে বাধা দেয়। এতে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া ও তানজিনাকে মারধর করার শব্দ শোনা যায়। এরপরে সন্ধ্যার পর থেকে সামিনুর ও তার স্ত্রী তানজিনা ও তাদের তিন সন্তানকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় তানজিনার পরিবারের পক্ষে থানায় অভিযোগ করলে সোমবার দুপুর ১টার দিকে পুলিশ এসে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার (তানজিনার) মৃতদেহ উদ্ধার করে। তানজিনা একই উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত তাইজদ্দিনের মেয়ে।
তানজিনার মা মোমিনা বেওয়া বলেন, ‘রোববার রাত ৯টায় দিকে মোবাইল ফোনে জামাই সামিনুর জানায় আমার মেয়ে তানজিনাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন খবরে জামাইয়ের (সামিনুর) বাড়িতে এসে তালা দেখতে পাই। মেয়ে-জামাইসহ নাতনী শাবনুর আক্তার (৮), ময়না আক্তার (৬) ও নাতি ইমরানকে (৩) খুঁজতে থাকি। সোমবার সকালে সামিনুরের বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে মেয়ে তানজিনার ওড়না ভাসতে দেখে ডিমলা থানায় খবর দেই। পরে পুলিশ এসে তানজিনার লাশ উদ্ধার করে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সিলেটে যেতে বাধা দেওয়ায় সামিনুর আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে সোমবার বিকেলে ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্ত ইলিয়াস হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নীলফামারী সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর ও ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন খানের উপস্থিতিতে পুকুরে জাল ফেলে গৃহবধূ তানজিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। তানজিনার স্বামী সামিনুর তার তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


