শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে কোচিং বাণিজ্য


NEWSWORLDBD.COM - May 4, 2016

health-minis-32544জেল জরিমানার বিধান রেখে চার বছর আগে শিক্ষা আইনে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা হয়েছে। তবে কোন কোচিং সেন্টারই নীতিমালা মানছেন না। শিক্ষকরাও ঝুঁকছেন আরও প্রবলভাবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকিও নেই। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে কোচিং বাণিজ্য।

শিক্ষা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোচিং বন্ধে নীতিমালা ঘোষণা করলেও তা বাস্তয়নে যেভাবে পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল তা নিতে পারেনি শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

কোচিং সেন্টারগুলোর সিন্ডিকেট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দেশে বত্রিশ হাজার কোটি টাকার কোচিং-বাণিজ্য হয়। সেটা সিন্ডিকেটের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়। এই বাণিজ্য বন্ধ করা একদিনে সম্ভব নয়। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছি আমি। ইতিমধ্যেই সাইফুরস’সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা করা হয়েছে। আগে যেসব শিক্ষক অধিক হারে কোচিং করাতেন তারা কোচিং করানো অনেকটা বন্ধ করেছেন। মন্ত্রণালয় একটা নাড়া দিয়ে এই পর্যায়ে এনেছে। কোচিং বন্ধে অভিভাবকদেরও ভূমিকা থাকতে হবে। সবার বাসা গিয়ে গিয়ে তো তদারকি করা সম্ভব না।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের আগস্টে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা’ জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন শ্রেণী সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বা পরে শুধুমাত্র অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে মেট্রোপলিটন শহরে মাসিক ৩০০ টাকা, জেলা শহরে ২০০ টাকা এবং উপজেলা বা স্থানীয়পর্যায়ে ১৫০ টাকা করে রসিদের মাধ্যমে নেয়া যাবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান স্ববিবেচনায় এ হার কমাতে বা মওকুফ করতে পারবেন। কোনো শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোনো কোচিং সেন্টারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তারা শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে উৎসাহিত বা বাধ্য করতে পারবেন না। এমনকি এ বিষয়ে কোনো প্রচার চালাতে পারবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উপ-সচিব জানিয়েছেন, ‘মূলত স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের জন্য এই নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। বাইরে গড়ে ওঠা হাজার হাজার কোচিং সেন্টার এই নীতিমালার আওতায় পড়ে না। কেবল ট্রেড লাইসেন্স নিলেই চলে। অনেকে সেটাও নেয় না। এই নীতিমালা অনুসারে কোচিং সেন্টারগুলোতে মন্ত্রণালয়ের তদারকি করার সেরকম কোন সুযোগ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও এসবে আমরা অসহায় বলা যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোন স্কুল-কলেজের শিক্ষক নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোচিং সেন্টারে যুক্ত হয়। নীতিমালার শর্তসমূহ লঙ্ঘন করে তবেই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। সেটাও খুব সীমিত।’

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন বলেন, কোচিং-প্রাইভেটের কারণে সরকারি কলেজের কিছু শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। তবে মানুষের নৈতিক স্খলন হলে তা শুধু নীতিমালা ও বিধি দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয় না। তার পরও চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। তবে একসাথে তো সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে না। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।’

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.