“৩০ বছর পার হয়ে গেলে আর কেউ যুবক থাকে কি না- এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে? একসময় কিন্তু এই ৩০ বছর পার হয়ে গেলে বিয়ের কনে পাওয়া যেত না। কাজেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই।”
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেছেন।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমি বলেছি, বেকার যুবকদের জন্য একটি কর্মসংস্থান ব্যাংকই প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। যেখান থেকে তারা বিনা জামানতে অল্প সুদে ঋণ নিতে পারে। এরকম সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি। তারা যদি এই সুযোগগুলো গ্রহণ করেন তাহলে নিজেরাই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। পাশাপাশি আরো অনেক মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে কিন্তু ২৪ থেকে ২৫ বছরের বেশি সময় লাগে না। আর এখন আমরা পড়াশোনার উপর জোর দিয়েছি। নিয়মিত পড়াশোনা হচ্ছে। সেখানে কিন্তু আর সেশন জট হচ্ছে না। কারণ, আমরা সেশন জট দূর করেছি। কাজেই ছেলেমেয়েরা যদি ১৫-১৬ বছরে এসএসসি পাস করে তাহলে সে ১৭-১৮ বছরে এইচএসসি পাস করে যাচ্ছে। আর সে যদি অনার্স নিয়ে পড়ে তাহলে ২২ বছরের মধ্যে সে অনার্স এবং ২৩ বছরে মাস্টার্স পাস করছে। কাজেই তার কিন্তু চাকরির জন্য যথেষ্ট সময় রয়ে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি বাড়ালে হয়ত যুবকদের জন্য চাকরি হবে না। যারা প্রৌঢ় হয়ে যাবেন তাদের জন্য চাকরি হবে কি না সেটা আপনি বলতে পারেন? কারণ, ৩০ বছর পার হলে তারা যুবক থাকছেন কোথায়?’
সংসদ নেতা বলেন, ‘অবশ্য এখন আমরা ৭০ বছরেও মনে করি যুবক। ওইভাবে যদি ধরেন সেটা আলাদা কথা। কাজেই এ ধরনের কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। বরং আমরা বলবো ছেলে-মেয়েরা সময়মতো পড়াশোনা করে পাস করে চাকরিতে প্রবেশ করুক যাতে যুবক বয়সে তাদের যে মেধার শক্তি, তাহলে সেটাকে আমরা জাতি গঠনে কাজে লাগাতে পারি।’


