নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক তোয়াব খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। ল্যাব এইড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বরেণ চক্রবর্তীর অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
৮২ বছর বয়সী একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক তোয়াব খান স্বাধীনতার পর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব।
হৃদপিণ্ডের জটিলতা সন্দেহে তোয়াব খানকে বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থাবস্থায় আনা হয়েছিল ল্যাব এইড হাসপাতালে। কিন্তু পরীক্ষা-নীরিক্ষায় ধরা পড়ে হৃদরোগ নয়, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
শুক্রবার রাতে বরেণ চক্রবর্তী বলেন, হৃদপিণ্ডের জটিলতা সন্দেহ করা অমূলক নয়। কেননা, তার হৃদপিণ্ডে ব্লক ছিল, সেখানে রিং পরানো আছে। তার প্রধান সমস্যা নিউমোনিয়া। বৃহস্পতিবার তার অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। আজ (শুক্রবার) অবস্থা অনেক ভাল। বৃহস্পতিবার তো কথাই বলতে পারেননি। আজ (শুক্রবার) তো কথা বলছেন।
জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় বলেন, গত কয়েকদিন থেকেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তোয়াব খান বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার একটু বেশি সমস্যা হওয়ায় সন্ধ্যায় তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি (তোয়াব খান) সিসিইউতে থাকলেও অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন আগামীকাল তাকে কেবিনে দেওয়া হবে। তোয়াব খান ডা. বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধায়নে রয়েছেন বলেও জানান স্বদেশ রায়।
তোয়াব খান ১৯৫৫ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন, পরে ১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন আর ১৯৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তোয়াব খানের লেখা এবং উপস্থাপনায় প্রচারিত হতো ‘পিন্ডির প্রলাপ’। ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক হন তোয়াব খান। পরে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মো. এরশাদ এবং প্রথম অন্তবর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তোয়াব খান প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এবং প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।


