বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করতে পাকিস্তানকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৬ মে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান এ উদ্বেগের কথা জানায়। ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে ৭ মে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ‘ডন’ এ খবর প্রকাশ করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া জানান।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আমাদের হতাশ করেছে। আমরা কখনেই আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারও উদ্বেগকে স্বাগত জানাই না। বার বার মনে করিয়ে দেওয়ার পরও তারা এটি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৪ সালে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে উল্লেখ ছিল পাকিস্তানের যে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের বিচার করা হবে না। ওই চুক্তিতে কিন্তু বলা হয়নি যেসব যুদ্ধাপরাধী বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের বিচার করা যাবে না। মানবতাবিরোধীরা পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন বিধায় পাকিস্তান ব্যথিত হয়েছে।
এসব কারণে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে দূরে থাকতে এবং ’৭৪-এর চুক্তির অপব্যাখ্যা দেওয়া বন্ধ করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করছি। বিবৃতিতে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে চলমান বিচারকে ‘বিতর্কিত’ বলা হয়েছে।


