চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয় ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনি সিংহসহ বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি মামলার ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববারসহ গত দুই দিনে দুদকের পৃথক অভিযানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বাংলামেইলকে এসব জানান।
মনি সিংহসহ গ্রেপ্তারকৃতরা অন্যরা হলেন- নোয়াখালীর মাইজদিকোর্ট উপজেলার হরিনারায়নপুর গ্রামের একেএম সাইফুদ্দিন তরুণ, যশোরের নাভারণে অবস্থিত জাপান বাংলাদেশ কালচার এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সনৎ কুমার ভাস্কর, একই প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম, ঠিকাদার মো. জালাউদ্দীন, বি-বাড়িয়ার দক্ষিণ মৌরাইলের বাসিন্দা মো. শরীফ আহমেদ ও তার ভাই সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং মানিকগঞ্জের আন্দারমানিক গ্রামের বাসিন্দা সুধীর কুমার মণ্ডল।
দুদক সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আসা কৃষিজাত পণ্যের মান ও রোগ-বালাই যাচাইয়ের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইং চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেয়। সেখানে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ২২৭ টাকা ব্যয়ে জয় ইন্টারন্যাশনাল নামে ঢাকার এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায়। কিন্তু নির্মাণাধীন ওই ভবনের লুপ ঢালাইয়ে রড না দিয়ে কাটা বাঁশ এবং খোয়ার পরিবর্তে পরিত্যক্ত সুরকিসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রমাণ পায় দুদক। প্রাথমিক এই প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার ধামুরহুদা থানায় একটি মামলা (নং-১৩) দায়ের করা হয়। এই মামলা আসামি হিসেবে গত ৬ মে ঢাকা থেকে মনি সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া খাস খতিয়ানভুক্ত ১ দশমিক ২৫ একর জমি জাল কাগজপত্র দিয়ে হেবা দলিল তৈরি করে ৫ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে একে এম সাইফুদ্দিন তরুণকে। একই সঙ্গে ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৭৫৮ টাকা ও ৪০০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে দুই ভাই মো. শরীফ আহমেদ ও সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং সুধীর কুমার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


