সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি কারা কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। জামায়াত আমিরের রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় সোমবার প্রকাশের পর এখন বিধি অনুযায়ীই দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছেন, এখন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগই কেবল রয়েছে নিজামীর। তিনি তা না চাইলে দণ্ড কার্যকরের পদক্ষেপ নেবে কারা কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজের পর রোববার রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় তাকে। এই কারাগারেই অন্য যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল।
সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দণ্ড কার্যকর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, কাশিমপুর থেকে ঢাকায় আনার মানে এই নয় যে এখনই ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হবে।
“যে ফরমালিটিজ আছে। তার (নিজামীর) দণ্ডাদেশ আসতে হবে আমাদের কাছে, পূর্ণাঙ্গ রায় আসতে হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় আসার পর আমাদের আরও অনেক নিয়ম-কানুন আছে। সেগুলো পালন করেই রায় কার্যকর করা হবে।”
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি আছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সব ঠিক আছে।”
বিকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কথা বলার আগেই রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতিরা সই করেন। তার অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যায় সেই রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
জামায়াত আমিরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে বহির্বিশ্ব থেকে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি রয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “কোনো ধরনের হুমকি বাংলাদেশে নেই।
“বাংলাদেশে হাল ধরেছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজেই কোনো ধরনের থ্রেট-ট্রেট নাই আমাদের বাংলাদেশে। আমরা সঠিকভাবে চলছি।”
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এর মধ্য দিয়ে নিজামীর বিচারের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হল।
“জেল কর্তৃপক্ষ তাকে জানাবেন তিনি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান, তাহলে তিনি তা করতে পারেন। যদি তিনি প্রাণভিক্ষা না চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। অর্থাৎ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে।”
প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার সময়সীমা প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, “তাকে জানানো হবে এবং জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে একটি যুক্তিসঙ্গত সময় হয়ত তাকে দেওয়া হবে। একদিনের সময় দেওয়া হতে পারে, পিটিশান (মার্সি পিটিশান) লেখার জন্য বা এটাকে প্রস্তুত করার জন্য যতটুকু সময় দরকার।”
নিজামী যদি প্রাণভিক্ষা না চাওয়ার কথা সোমবারই জানিয়ে দেন, তাহলে কতদিন সময় লাগতে পারে- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়।”
নিজামী প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন না বলে তার দলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।
তা জানানো হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটানো হবে না।”


