যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। রিভিউ আবেদন খারিজের তিন দিন পর রোববার মধ্যরাতে নিজামীকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে আনা হয়।
আইনি শেষ লড়াইয়ে হারের পর একাত্তরের এই আল বদর নেতার সামনে এখন কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগই রয়েছে। তিনি ক্ষমা না চাইলে কিংবা চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেবে সরকার।
জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামী অনেক দিন ধরেই কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। রিভিউ আবেদন খারিজের পরদিন গত শুক্রবার সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন স্ত্রী-সন্তানরা।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে নিজামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যান ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে বলে কারা কর্মকর্তারা জানান। এটি ঢাকা কারাগারে পৌঁছায় রাত ১২টার ঠিক আগে।
যুদ্ধাপরাধে এর আগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত অন্যদের দণ্ডও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর হয়েছিল।
একাত্তরের হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীকে প্রাণদণ্ড দেয়।
গত ৬ জানুয়ারি আপিলের রায়েও ওই সাজা বহাল রাখা হলে রিভিউয়ের আবেদন করেন নিজামী, যা গত বৃহস্পতিবার খারিজ হয়ে যায়।
নিজামী একাত্তরে ছিলেন জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আল বদর বাহিনীর প্রধান।
তার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বেই যে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল- এই মামলার বিচারে তা প্রমাণিত হয়।
বিচারের কালক্রম
# ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করার পর একই বছরের ২ অগাস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
# ২০১২ সালের ২৮ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে জামায়াত আমিরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়।
# তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। নিজামীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তার ছেলে মো. নাজিবুর রহমানসহ মোট চারজন।
# বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল যে রায় দেয় তাতে প্রসিকিউশনের আনা ১৬ অভিযোগের মধ্যে আটটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এই আট অভিযোগের মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর ঘটনায় নিজামীর ফাঁসির রায় হয়।
# ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী। নিজামীর করা আপিলে ১৬৮টি যুক্তি তুলে ধরে সাজার আদেশ বাতিল করে খালাস চাওয়া হয়। সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
# এই আপিলের ওপর ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শুনানি শুরু হয় চলে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বাদশ দিনে শুনানি নিয়ে ৮ ডিসেম্বর আদালত রায়ের দিন ঠিক করে দেয়।
# ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগেও ফাঁসির রায় বহাল থাকে।
# ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে। পরদিন তা নিজামীকে পড়ে শোনানো হয়।
# ২৯ মার্চ নিজামী রিভিউ আবেদন করলে ৩ মে শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার রিভিউ খারিজ করে আপিল বিভাগ।


