কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী নিহত সোহাগী জাহান তনুর সঙ্গে গান করতেন কুমিল্লার এমন পাঁচ সংগীত শিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিআইডি। এদের মধ্যে শিল্পী সোনিয়া সাহা শান্তা, রাসেল সারওয়ার, চর্থার প্যাড বাদক নুরুল ইসলাম খোকন মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিআইডির ডাকে কুমিল্লা সিআইডি অফিসে আবারো এসেছেন নিহত তনুর বাবা এয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম এবং চাচাতো বোন লাইজু জাহান।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের নেতৃত্বে সিআইডির একটি বিশেষ দল কুমিল্লায় পৌঁছেছেন। তাঁরা বিকেল ৩টা থেকে তনু হত্যা মামলায় তনুর সহকর্মী শিল্পীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের সঙ্গে রয়েছেন সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মাওলা। এ ছাড়া সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম এ দলে রয়েছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী নিহত সোহাগী জাহান তনুর চাচাতো ভাই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মিনহাজ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম। কুমিল্লার মুরাদনগরের মীর্জাপুরে তনুর গ্রামের বাড়িতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তনুর চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও ছোটভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের বাসায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বেশ কিছু দিন ঢাকায় অবস্থানের পর কুমিল্লায় ফিরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এদিকে, সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহিম মামলা প্রসঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বার বার বিব্রতকর প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত তনুর বাবা এয়ার হোসেন।
এয়ার হোসেন বলেন, “আমার পরিবারের সদস্যদের যেমন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তেমনি আমার মেয়ে যাদের বাড়িতে পড়াতে গেল তাদের পরিবারেও তো সদস্য রয়েছে, তাদেরকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। আমার পরিবারের সদস্যদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “শনিবার কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে সিআইডির কর্মকর্তা জালাল আহমেদকে আমি বলে এসেছি যে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই।”


