বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

নিজামীর ৪ সন্তান বাবার মরদেহ দেখবে না

Nizami-house1_BG20মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যু হলেও তার মরদেহ দেখতে আসছেন না চার সন্তান। স্ত্রী ছাড়া ৬ সন্তানের মধ্যে একমাত্র বড় ছেলে ও পুত্রবধূ এবং ছোট মেয়ে নিজামীর সঙ্গে শেষ দেখা করেছেন। নিজামীর মরদেহ দেখতে না আসা ওই চার সন্তানের মধ্যে ৩ পুত্র ও ১ মেয়ে বিদেশে থাকেন।

শেষবা‌রের মতো নিজামীকে দেখতে তার স্ত্রী, বড় ছে‌লে, বড় পুত্রবধূ, ছোট মে‌য়ে ও দুই  না‌তি ছাড়া কেউই দেখবেন না। কারণ, বিদেশে অবস্থান করা পরিবারের সদস্যদের দে‌শে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই ব‌লে জানিয়েছে পারিবারিক একটি সূত্র।

ঢাকার বনানীর ১৮ নম্বর রোডের জে ব্ল‌কের ১৮ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ি মিশন নাহা‌রে থাকেন বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝোলা দেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী নিজামীর পরিবারের কয়েকজন।

নিজামীর চার ছে‌লে ও দুই মে‌য়ের ম‌ধ্যে বড় ছে‌লে না‌জীব মো‌মেন ‌ঢাকায় আইনজীবী। তিনি ব্যা‌রিস্টারি ক‌রেন।

বাকি পাঁচজনের ম‌ধ্যে ডা. খা‌লেদ থা‌কেন অ‌স্ট্রেলিয়ায়, তা‌রেক থা‌কেন অা‌মে‌রিকায় ও ছোট ছে‌লে তালহা মা‌লয়ে‌শিয়ায় থা‌কেন। বড় মে‌য়ে খা‌দিজা থা‌কেন লন্ড‌নে ও ছোট মে‌য়ে মহ‌সিনা মা‌লয়ে‌শিয়ায় পিএইচ‌ডি অধ্যয়নরত থাকলেও এখন বাংলা‌দে‌শে অা‌ছেন।

মিশন নাহারের চতুর্থতলার ফ্ল্যাটে তাই এ মুহূর্তে বড় ছেলে ব্যারিস্টার না‌জীব মো‌মেন, বড় পুত্রবধূ ও দুই  না‌তি এবং ছোট মে‌য়ে মহ‌সিনাকে অবস্থান করছেন নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী।

নিজামীর ঘ‌নিষ্ঠ একজন ব‌লেন, নিজামীর যে চার সন্তান বিদেশে আছেন, তারা দেশে এসে কি তাদের বাবা‌কে বাঁচা‌তে পার‌বেন? বরং উল্টো ঝা‌মেলায় পড়ার আশঙ্কা আছে। সরকার য‌দি তা‌দের আর বি‌দেশ যে‌তে না দেয়? এজন্য তার ফাঁসির পরও ওই চার ছেলে-মেয়ের কেউই তার মরদেহ দেখতে দেশে আসবেন না।

তিনি জানান, এমনকি নিজামীর মৃতদেহ দেখানোর জন্যও বিদেশে অবস্থানরতদের আসার অপেক্ষা করবেন না দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা। ফাঁসি কার্যকর হলে সরাসরি নিজামীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামের বাড়িতে।

পারিবারিক অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে গত শুক্রবার গাজীপু‌রের কা‌শিমপুর কারাগা‌রে নিজামী‌কে দেখ‌তে গি‌য়ে‌ছিলেন তার বাসায় থাকা পরিবারের সদস্যরা। এরপর থে‌কে তা‌কে আর দেখ‌তে যান‌নি তারা। এমনকি তার স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী বাড়ির বাইরেও বের হননি। এরপর রাতে যান কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বামীকে শেষ দেখা দেখতে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিভিউয়ের রায় খারিজের পরদিন কাশিমপুর কারাগারে নিজামীর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর রোববার জামায়াত আমিরকে ঢাকার কারাগারে আনা হয়।

তার তিন দিনের মধ্যে ফের দেখা করতে ডাক পেলেন পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

o শেষ সময়গুলো যেভাবে কাটিয়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুললেন নিজামী

o নিজামীকে ঝুলালো এই সেই জল্লাদ রাজু

o নিজামীর ‘কবর’ মনমোদপুরে

আরও পড়ুন