বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহাল থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এ দেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার সুজা আলম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক ও কনস্যুলার) মিজানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে মন্ত্রণালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের আমির নিজামীর বিচার নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করা হয়।
এদিন বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সুজা আলমকে অভ্যর্থনা জানান এবং সচিবের কক্ষে নিয়ে যান।
সুজা আলম আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অনেক মজবুত। এ সম্পর্ক দুই দেশের মানুষে-মানুষে। পাকিস্তান আশা করে বাংলাদেশের সঙ্গে এই সম্পর্ক দিন দিন আরও মজবুত হবে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়ে মঙ্গলবার (১০ মে) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা, জামায়াতের আমির নিজামীর ফাঁসির রায় কর্যকর করা হয়।
এর পরেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে এবং নিজামীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় দেশটি।
এ প্রসঙ্গে সুজা আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহাল থাকবে।
এদিকে বারবার মানা করার পরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোয় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করায়, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাজমুল হুদাকে পাল্টা তলব করে পাকিস্তান।
নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর পাকিস্তানের সংসদে যে শোক প্রস্তাব উঠেছে এবং তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে শোক বিবৃতি দিয়েছে সে অবস্থানে ‘অনড়’ থাকার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাজমুল হুদাকে তলব করে এ অবস্থান জানালে, জবাবে তিনিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কথা পাকিস্তানকে জানিয়ে দেন।


